বিডিসিলেট ডেস্ক : নবীগঞ্জে দুই সাংবাদিকের বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় আরও ৩১৮৪ জনকে আসামি করে আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত রিমন মিয়া হত্যার অভিযোগে শুক্রবার রাতে নবীগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত এই মামলায় দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধিসহ পাঁচজন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। মামলায় মোট ১৮৪ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় তিন হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
মামলাটি দায়ের করেছেন নিহত রিমনের ছোট ভাই রাজন আহমেদ বিধু। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ কামরুজ্জামান মামলা রুজুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক মানবজমিনের নবীগঞ্জ প্রতিনিধি এম, এ বাছিত, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছনি আহমদ চৌধুরী, দৈনিক হবিগঞ্জ সময় পত্রিকার সম্পাদক মোঃ.আলা উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক সেলিম মিয়া তালুকদার এবং স্টাফ রিপোর্টার জাবেদ ইকবাল তালুকদার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক আশাহিদ আলী আশা ও মামলার আসামি সেলিম তালুকদারের মধ্যে পেশাগত দায়িত্বের বাইরে ফেসবুকে একে অপরকে নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এর জেরে সেলিম তালুকদারের লোকজন আশাহিদ আলীকে নবীগঞ্জ বাজারে মারধর করে। এ সময় স্থানীয়রা দুজনকে আটক করে পুলিশে দিলে সেলিম তালুকদারের পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তার নেতৃত্বে কয়েকটি গ্রামের (পূর্ব-পশ্চিম তিমিরপুর ও চরগাঁও) লোকজন সংগঠিত হয়ে বাজারে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
এই উত্তেজনার মধ্যেই গত ৭ জুলাই দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি আলা উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রায় ২৫০০-৩০০০ লোক আনমনু গ্রামে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়, যা পরবর্তীতে কয়েকটি গ্রামের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
নবীগঞ্জ থানার ওসি শেখ কামরুজ্জামান বলেন, রিমন হত্যার অভিযোগে ১৮৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
উল্লেখ্য, ৭ জুলাইয়ের এই ভয়াবহ সংঘর্ষে দুজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। এছাড়া ব্যাপক অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় মোট চারটি মামলা দায়ের করা হলো। আগের তিনটি মামলা ছিল হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা এবং হাসপাতাল ভাঙচুরের অভিযোগে। সব মিলিয়ে এই মামলাগুলোতে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
