বিডিসিলেট ডেস্ক : মোশাররফ হোসেন ছাব্বির। একজন স্বপ্নবাজ তরুণ। ইউটিউব আর ফেসবুক দেখে স্বপ্ন জাগে ফ্রিল্যান্সার হওয়ার। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও হার মানেননি দরিদ্রতার কাছে।
অন্যের কাছ থেকে ধার করে এনে দেওয়া মায়ের ৪০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করেন স্বপ্নের যাত্রা। অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে তিনি এখন সফল ফ্রিল্যান্সার। প্রতি মাসে আয় করছেন দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত। হাল ধরেছেন পরিবারের।
শুধু তাই নয়, নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেছেন বেস্ট আইটি কম্পিউটার নামে একটি ট্রেনিং সেন্টার। সেখানে বসে দেশব্যাপী অনলাইন ও অফ লাইনে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তরুণদের। ভারত সীমান্ত লাগোয়া কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বৈদ্যেরখিল গ্রামের ভ্যানচালক খোরশেদ আলমের ছেলে মোশাররফ হোসেন। তিনি এখন চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় তরুণদের আইডল হিসেবে পরিচিত।
মোশাররফের বেস্ট আইটি ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, অভাবের সংসার। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি। বাবা ভ্যানগাড়ি চালিয়ে ও মা অন্যের বাসায় কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাতেন। ২০১৯ সালে চৌদ্দগ্রাম বাজারে একটি ট্রেনিং সেন্টারে কম্পিউটার শেখেন।
এরপর তার ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। অনলাইনে একাধিক ফ্রিল্যান্সিং কোর্সে ভর্তি হন তিনি। তবে সবখানেই প্রতারণায় শিকার হন মোশাররফ। পরে ফেসবুক ও ইউটিউব দেখে রপ্ত করতে থাকেন ফ্রিল্যান্সিংয়ের কৌশল। এই কাজে তিনি সময় ব্যয় করেছেন প্রায় দুই বছর।
মোশাররফ বলেন, অনলাইনে টাকা আয় করা যায় এমনটি বুঝিয়ে মা হাসিনা বেগমকে রাজি করান কম্পিউটার কিনতে। নিজের কাছে টাকা না থাকায় ছেলের আবদার মেটাতে হাসিনা বেগম অন্যের কাছ থেকে ধার নেন ৪০ হাজার টাকা। সেই টাকা তুলে দেন মোশাররফের হাতে। টাকা পেয়ে ওই দিনই মোশাররফ কেনেন ল্যাপটপ, ঘরে সংযোগ নেন ইন্টারনেটের। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০২১ সালের নভেম্বর মাস থেকে তিনি আয় করতে শুরু করেন। প্রথম মাসেই ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ করে তিনি কামিয়েছেন ৫০০ ডলার। এই যেন তার স্বপ্ন হাতে ধরা দিল।
এরপর ২০২৪ সালের মার্চে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরে বেস্ট আইটি কম্পিউটার নামে একটি ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ৪০ জন শিক্ষার্থী ফ্রিল্যান্সিংয়ে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা। বর্তমানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে অন্তত ৬০ জন তরুণ শিক্ষার্থী। এতে মোশাররফের আয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি মোশাররফ চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের লেখাপড়াও। বর্তমানে তিনি চৌদ্দগ্রাম নজমিয়া কামিল মাদরাসার ফাজিল (ডিগ্রি) দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছেন।
তরুণদের উদ্দেশ করে মোশাররফ বলেন, ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে টাকার অভাব নেই। সময়কে কাজে লাগাতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং শিখতে পারলে ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাবে।
বৈদ্যেরখিল গ্রামের মোহাম্মদ হোসাইন নামে এক যুবক বলেন, একটি হতদরিদ্র পরিবার থেকে বেড়ে ওঠেন মোশাররফ। তবে হার মানেননি দরিদ্র্যতার কাছে। নিজ প্রচেষ্টায় ফ্রিল্যান্সিং শেখে তিনি এখন মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। তাকে অনুসরণ করছে গ্রামের তরুণরা। ফ্রিল্যান্সিং পেশায় তারাও ঝুঁকছে। এককথায় বলতে গেলে, মোশাররফ এখন চৌদ্দগ্রামের আইডল।
মোশাররফের বাবা ভ্যানচালক খোরশেদ আলম বলেন, অনেক কষ্ট করে ছেলে-মেয়েদের লালন-পালন করেছি। নিজ প্রচেষ্টায় মোশাররফ অনেক দূর এগিয়েছে। সে এখন নেট থেকে ডলার ইনকাম করে এবং মানুষকে শেখায়। আমার কষ্টের সংসারের হাল ধরেছে। বাবা হিসেবে তার জন্য অনেক দোয়া রইল।
