একদিকে রাজনৈতিক পরিচিতি, অন্যদিকে শিক্ষকতা ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় পারিবারিক ঐতিহ্য। এমন একটি পরিবারে বেড়ে ওঠা নাহিয়ান বিন খালেদের স্বপ্ন একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলে দেশের সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার শরীফনগর গ্রামের বাসিন্দা নাহিয়ান ২০২৪ সালে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) অর্জন করেন। পরে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি।
নাহিয়ানের বাবা খালেদুর রশীদ ঝলক দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি আজমিরীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, এছাড়া সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক, ইলিয়াস মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সদস্য।
শিক্ষাজীবনে খালেদুর রশীদ ঝলক প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে আজমিরীগঞ্জ অ্যামালগেমেটেড বীরচরণ সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে সিলেটের মদন মোহন কলেজ থেকে এইচএসসি ও স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর সিলেট আইন কলেজ থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে অ্যাডভোকেটশিপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
নাহিয়ানের মা কামরুন্নাহার শারমিন সিলেটের ওসমানী মেডিকেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সিলেট শিক্ষা বোর্ডে প্রধান পরীক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর শিক্ষাজীবনেও রয়েছে কৃতিত্বের স্বাক্ষর। এসএসসি পরীক্ষায় স্টার মার্কসসহ প্রথম বিভাগ এবং এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ অর্জন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সিলেটের এমসি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি বিএড পরীক্ষায়ও প্রথম বিভাগ অর্জন করেন।
নাহিয়ানের নানা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী পাঠান হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার।
পারিবারিক পরিচয়ের বাইরে নিজের স্বপ্ন ও লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যেতে চান নাহিয়ান। তাঁর ইচ্ছা সরকারি মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করে চিকিৎসক হওয়া। শুধু চিকিৎসক পরিচয় নয়, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা দূর করে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর মূল প্রত্যাশা।
নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে নাহিয়ান বিন খালেদ বলেন, সরকারি মেডিকেল কলেজে অধ্যয়ন করে একজন আদর্শ ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চাই। চিকিৎসা খাতের বর্তমান সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করে দেশের সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক ও যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা আমার জীবনের ব্রত।
পরিবারের রাজনৈতিক, শিক্ষাগত ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্যের পাশাপাশি নিজের মেধা ও স্বপ্নকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চান নাহিয়ান । তাঁর প্রত্যাশা, একদিন চিকিৎসক হয়ে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করবেন।
