BD SYLHET NEWS
সিলেটবৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:৩৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নামেই আইকনিক রেলস্টেশন, সেবাবঞ্চিত যাত্রীরা


অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১২:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দৃষ্টিনন্দন। দূর থেকে দেখলে মনে হবে ঝিনুক। এটি ছয়তলা কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন। তিন বছর হলো এটির উদ্বোধন হয়েছে। প্রতিদিন অর্ধ লাখ মানুষের পদচারণ থাকে এ রেল স্টেশনে। তবে আইকনিক স্টেশন হলেও শুধু নামেই তা সীমাবদ্ধ। যে সুযোগসুবিধার জন্য এ রেল স্টেশনের তৈরি হয়েছিল উদ্বোধনের প্রায় তিন বছরে তার সামান্য সুবিধাও মিলছে না। এ রেলস্টেশনে ১৮টি সেবার মধ্যে এ পর্যন্ত চালু হয়েছে মাত্র দুটি। ২৯ একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা ১ লাখ ৮৭ হাজার বর্গফুটের এ রেলস্টেশন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২১৫ কোটি টাকা।

গত আগস্টে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ রেল স্টেশনটি পরিদর্শকালে বলেছিলেন, ওই মাসেই ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও এক জোড়া নতুন আন্তনগর ট্রেন চালু করা হবে। একই সঙ্গে দেশের অন্যতম আধুনিক কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্যে এর পরিচালনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে স্টেশন মাস্টার জানালের ভয়াবহ তথ্য, যে প্রতিষ্ঠান এ অবকাঠামো তৈরি করেছে। তারা এখনো রেল কর্তৃপক্ষকে পুরো স্টেশন হস্তান্তর করেনি। আবার তিন বছরের মধ্যে স্টেশনের বিভিন্ন জায়গায় ত্রুটি দেখা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির সময় যাত্রীদের ভিজে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এ রেলস্টেশনে তারকা মানের হোটেল, শপিংমল, রেস্তোরাঁ, শিশুযত্ন কেন্দ্র, লাগেজ রাখার লকারসহ অত্যাধুনিক বিভিন্ন সুবিধা থাকার কথা থাকলেও তার সুফল এখনো মিলছে না। দৈনিক ৪৬ হাজার যাত্রীর ধারণক্ষমতার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ স্টেশনে ডাকঘর, কনভেনশন সেন্টার, তথ্যকেন্দ্র, এটিএম বুথ ও প্রার্থনার স্থানও থাকার কথা রয়েছে। সুবিধা বাড়াতে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আইকনিক স্টেশনটি বেসরকারি খাতে ইজারা দিয়ে যাত্রীদের অধিকতর সেবা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিলেও এ পর্যন্ত কোনো ইজারাদার পাননি।

স্টেশনে শুধু টিকিট কাউন্টার, আগমন লাউঞ্জসহ কয়েকটি সুবিধা দিচ্ছে মাত্র। শপিং মল, রেস্তোরাঁ, হোটেল, শিশুযত্ন কেন্দ্র, কনফারেন্স হলসহ পরিকল্পিত বেশির ভাগ সুবিধা এখনো চালু হয়নি। পর্যাপ্ত শৌচাগার না থাকাতে যাত্রীদের বিড়ম্বনারও শেষ নেই।

২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনটি উদ্বোধন করা হয়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ছয়তলা ভবনটিতে পর্যটক ও যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে রাখা হয়েছে নানা আধুনিক সুবিধা। কিন্তু এখনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা চালু হয়নি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবনের নিচতলায় তথ্যকেন্দ্র, মসজিদ, শিশুদের বিনোদনের স্থান, প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জ ও পদচারী সেতু রয়েছে। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে শপিং মল, শিশুযত্ন কেন্দ্র ও রেস্তোরাঁ। তৃতীয় তলায় ৩৯ কক্ষের তারকা মানের হোটেল করার কথা। অন্যান্য তলায় রেস্তোরাঁ, শিশুযত্ন কেন্দ্র, কনফারেন্স হল ও কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। স্টেশনের সামনে ঝিনুকের আদলে নির্মাণ করা হয়েছে পানির ফোয়ারা।

কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জয়নাল আবেদীন বলেন, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্টেশনটি এখনো বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে হস্তান্তর করেনি। কিন্তু এরই মধ্যে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ত্রুটিও দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির সময় যাত্রীদের ভিজে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।