থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের (রামা দশম) জ্যেষ্ঠ কন্যা রাজকুমারী বাজরাকিতিয়াভা মাহিদল মারা গেছেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তিনি কোমায় ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৪৭ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।
শুক্রবার থাইল্যান্ডের ব্যুরো অব দ্য রয়্যাল হাউসহোল্ড এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, রাজকুমারী পেটের সংক্রমণে ভুগছিলেন এবং ক্রমাগত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। রাজপরিবারের সদস্য ও সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ ব্যাংককের গ্র্যান্ড প্যালেসে রাখা হবে। রাজপরিবারের রীতি অনুযায়ী সর্বোচ্চ মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে পোষা কুকুর নিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন রাজকুমারী। চিকিৎসকেরা পরে জানান, মাইকোপ্লাজমা সংক্রমণের কারণে তার হৃদ্স্পন্দনে গুরুতর জটিলতা দেখা দিয়েছিল।
‘প্রিন্সেস ভা’ নামে পরিচিত বাজরাকিতিয়াভা ছিলেন রাজা ভাজিরালংকর্নের প্রথম স্ত্রী সোয়ামসাওয়ালির একমাত্র সন্তান। গত মে মাসে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। ফুসফুস ও কিডনির কার্যক্রম সচল রাখতে তাঁকে চিকিৎসা সরঞ্জামের সহায়তায় রাখা হয়েছিল।
আইনজীবী ও কূটনীতিক হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাজরাকিতিয়াভা যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে অস্ট্রিয়ায় থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন দায়িত্বেও ছিলেন এবং নারীর অধিকার, বিশেষ করে কারাগারে থাকা নারীদের কল্যাণে কাজের জন্য পরিচিত ছিলেন।
থাইল্যান্ডে রাজপরিবার অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। রাজকুমারী বাজরাকিতিয়াভা দীর্ঘদিন বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যুতে দেশটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
