সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে গলায় দা ধরে জোর করে সম্পত্তি লিখে দিতে বাধ্য করার অভিযোগে তার তিন সৎভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সুনামগঞ্জের একটি আদালত।
সোমবার সুনামগঞ্জের দিরাই জোনের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই আট আসামির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন এমপির স্ত্রী পারভীন আক্তার।
মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, স্বামীর দীর্ঘদিনের অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তার তিন সৎভাই মিলে এই সম্পদ আত্মসাতের চেষ্টা করেছেন।
মামলার প্রধান আসামি মঈন উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মাসুক চৌধুরী। তিনি এমপির ছোট সৎভাই এবং দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। অন্য আসামিরা হলেন এমপির আরও দুই সৎভাই মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী; মাটারগাঁও গ্রামের আমিরুল ইসলাম; পুরানো কার্নাগাঁও গ্রামের সয়ফুল চৌধুরী; তাল বাউসি গ্রামের দলিল লেখক মুজিবুর রহমান; কোলিয়ার কাপনের তাজুল ইসলাম এবং দিরাই সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের মোহরার মমতাজ বেগম।
মামলার এজাহারে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক অক্ষমতায় ভুগছেন নাছির চৌধুরী। এই সুযোগে আসামিরা তার দুই স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনা করেন।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি তিন ভাই মিলে দিরাই সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দুই কর্মচারীকে কর্মকর্তা সাজিয়ে নিয়ে এসে নাছির চৌধুরীকে একটি দলিলে সই করতে বলেন। তিনি রাজি না হলে আসামিরা তার গলায় দা ধরে সই না করলে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার সময় জীবিত থাকা নাছির চৌধুরীর অপর স্ত্রী শেলী চৌধুরী প্রতিবাদ করলে আসামি মিজানুর রহমান চৌধুরী তাকেও হত্যার হুমকি দেন। এতে ভয়ে শেলী মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নাছির চৌধুরীর সমর্থক ওয়াকিব হাসানকে হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২২ সালের জানুয়ারিতে পারভীন আক্তার দিরাইয়ে নাছির চৌধুরীর বাড়িতে গেলে তাকে মারধর ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর আইনজীবী কাওসার আলম জানান, ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম মামলাটি আমলে নিয়েছেন। তিনি অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে গত বছরের ১৮ এপ্রিল নাছির চৌধুরীর সৎভাই মাসুক চৌধুরী ও মিলন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তাকে মারধরের অভিযোগে দিরাই থানায় অভিযোগ করেছিলেন তার স্ত্রী পারভীন আক্তার।
পরে একই বছরের জুলাইয়ে দিরাই উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে একটি আবেদন করেন নাছির চৌধুরী।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তার সৎভাইয়েরা তাকে দিয়ে কিছু কাগজে সই করিয়ে নেন এই বলে যে সম্পত্তি তার মেয়েদের নামে লিখে দেওয়া হবে। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারেন, মেয়েদের বঞ্চিত করে ওই সম্পত্তি তিন সৎভাই নিজেদের নামে নিবন্ধন করে নিয়েছেন।
