সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক ক্বিনব্রিজ এলাকায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় এক মাদকাসক্ত ছিনতাইকারীর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে ইমন আচার্য্য নামে র্যাবের এক কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হত্যাকারী আসাদুল আলম বাপ্পীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার দুপুরে নগরীর তোপখানা রোডে বনবিভাগের গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে সিলেট নগরীর ক্বিনব্রিজ এলাকায় মাদকদ্রব্য সেবন ও বিক্রির খবর পেয়ে অভিযানে যায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীরা দিগ্বিদিক পালাতে শুরু করে।
এ সময় ক্বিনব্রিজ সংলগ্ন বনবিভাগের গেটের সামনে সাদা পোশাকে থাকা র্যাব কনস্টেবল ইমন আচার্য্য পুলিশ তাড়া করা এক মাদকাসক্ত ছিনতাইকারী বাপ্পীকে নিজ দায়িত্বে আটক করার চেষ্টা করেন তিনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যক্তি তার কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে কনস্টেবল ইমনের শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
র্যাব সদস্যকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ ধাওয়া করে ওই মাদকাসক্ত বাপ্পীকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে।
এদিকে, গুরুতর রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় কনস্টেবল ইমনকে দ্রুত উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালানোর পর, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির জানান, “পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সাদা পোশাকে থাকা র্যাব কনস্টেবল ইমন তাকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন। তখনই মাদকাসক্ত ব্যক্তিটি তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এই ঘটনায় সিলেটজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নিহত র্যাব সদস্যের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
