BD SYLHET NEWS
সিলেটমঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা


এপ্রিল ২১, ২০২৬ ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নওগাঁর নিয়ামতপুরের বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে ঘরে ঢুকে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাদের মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহতের ভাগনে সবুজ হোসেনকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ। তিনি মান্দা উপজেলার পারনপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে।

নিহতরা হলেন, বাহাদুরপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৪৩), তার স্ত্রী পপি খাতুন (২৮), ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)।

নিয়ামতপুর থানা পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআইর বিশেষ টিম ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া নওগাঁর পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় থামছে না স্বজনদের আহাজারি। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন আত্মীয় স্বজনেরা।

স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন হাবিবুর রহমান। ফজরের নামাজ পড়ার পর স্থানীয় এক বৃদ্ধা তাদের ঘরের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। পরে সেখানে এগিয়ে গেলে হাবিবুর, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের গলাকাটা মরদেহ দেখেন।

তাৎক্ষণিক বৃদ্ধার চিৎকারে গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে থানায় খবর দেয়। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত পপি সুলতানার মা সাবিনা বেগম বলেন, ১৩-১৪ বছর আগে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। একটা ছেলে আর একটা মেয়ে হয়েছে। ছেলেটা মাদরাসায় পড়ে। মাদরাসায় পড়বে না দেখে ৮ দিন আগে বাড়িতে চলে আসে। বিয়ে দেওয়ার পর থেকে ননদরা আমার মেয়ের সঙ্গে অশান্তি করে। ওরা ৫ বোন মিলেই আমার মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনিকে মেরে ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, আমার জামাই তার বাবার একমাত্র ছেলে। আমার জামাইকে ১০ বিঘা জমি দেওয়াতেই তাদের মূল সমস্যা। এইটা নিয়েই তাদের হিংসা শুরু হয়। তখন থেকেই তারা এর বংশকে নির্বংশ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।

নিহত হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিন বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। আমার মেয়ের জামাই ও নাতিরা এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। তারা বিভিন্ন সময়ে আমার ছেলেসহ পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি প্রদান করে আসছিল।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, নিহতদের মধ্যে হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তান পারভেজ ও সাদিয়া মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। হাবিবুর রহমান পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতি করার উদ্দেশে দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। পরিচয় প্রকাশ হওয়ার আশঙ্কায় ওই বাড়ির কর্তাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করা হয়।

নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিপি) এবং থানা পুলিশের সমন্বয়ে তিনটি পৃথক পৃথক টিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে। আর আসামি গ্রেফতারে জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।