শুষ্ক মৌসুমে টানা খরায় শুকিয়ে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নদী, ছড়া, পুকুর-ডোবা, খাল-বিল ও জলাশয়। এতে কৃষকদের ফসলি জমিতে সেচ ও গোখাদ্যের সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
খরার কারণে খাঁ-খাঁ করছে উপজেলার মাঠঘাট। বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ফসল রক্ষায় বিভিন্ন স্থানে গভীর নলকূপে সেচ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে পানির স্তর নিচে নামতে শুরু করায় দেখা দিয়েছে বিপত্তি। কোনো কোনো স্থানে বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিচ্ছে। ফসল রক্ষা দূরে; সুপেয় পানির জোগান দিতেই হিমশিম খাচ্ছে মানুষ।
সরেজমিন উপজেলার শমশেরনগর, পতনঊষার ও আলীনগর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত নভেম্বর মাস থেকে দীর্ঘ সময়ে অনাবৃষ্টির কারণে মাঠ-ঘাট শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও আবাদি জমিতে সেচের অভাবে ফাটল দেখা দিয়েছে। বোরো আবাদে গভীর ও অগভীর নলকূপ ব্যবহৃত হওয়ায় পানির স্তরও নিচে নামতে শুরু করেছে।
স্থানীয়রা জানান, এ অঞ্চলের নদী, পাহাড়ি ছড়া, খালবিল, ডোবা, পুকুর, জলাশয় ক্রমান্বয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে বোরো ক্ষেত ও মৌসুমি ফল বাগানে সেচ সংকট দেখা দিচ্ছে। অনাবৃষ্টি দীর্ঘায়িত হলে চা উৎপাদনেও প্রভাব পড়বে। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মাঠে ঘাস না জন্মানোয় পশুখাদ্যের মারাত্মক অভাব এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে।
এদিকে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় জলাশয়ে অভয়ারণ্য ও নিরাপদ আশ্রয় বিঘ্নিত হচ্ছে, যা মাছের প্রজনন হুমকির মুখে ফেলেছে। কয়েকটি গ্রামে টিউবওয়েলে কঙ্ক্ষিত পানি উঠছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ধূপাটিলা গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমাদের একমাত্র পুকুর শুকিয়ে যাচ্ছে। এই পুকুরে যে মাছ পাওয়া যেত, সে মাছ সারাবছর বাড়ির সাত-আটটি পরিবার ভাগ করে নিত। এতে প্রাকৃতিক দেশীয় ও তাজা মাছ পরিবারগুলোর অনেকটা আমিষের ঘাটতি পূরণ করত। পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় সব মাছ ও মাছের পোনা নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।
কৃষক সামছু মিয়া বলেন, পানি সংকটে ধান গাছ সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না। রোপিত অনেক জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে রোগবালাই বৃদ্ধিসহ ফল কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গভীর নলকূপ থেকে কোনোমতে মৌসুমি ফল বাগানে কিছুটা সেচ দেওয়া হলেও তা চাহিদানুযায়ী নয়। এতে আমগাছেরও অনেক মুকুল ঝরে পড়ছে।
কৃষক অহিদুল ইসলাম জানান, মাঠে গবাদিপশুর খাবার নেই বললেই চলে। এসব পশু মাঠ ছেড়ে পানি খাওয়ার জন্য দৌড়ে ছুটে আসে বাড়ির পুকুরের দিকে। পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি।
কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর বোরো চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার ১৯৫ হেক্টর। শনিবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, সেখানে ৪ হাজার ৩০০ হেক্টর জমি চাষ হয়েছে। সেচের পানির অভাবে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, এই সময়ে বৃষ্টিপাত হলে বোরো ও মৌসুমি ফলগাছের জন্য খুবই উপকার হতো। তবে কৃষকরা সেচ দিয়ে বোরো আবাদ করছেন। পানির স্তর নেমে যাওয়ায় মৌসুমি ফল বাগানেও নলকূপ থেকে সেচ দিতে হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
