BD SYLHET NEWS
সিলেটবুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিলেটে যে কারণে খুন হলেন আফিয়া!


আগস্ট ২৯, ২০২২ ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বিডিসিলেট ডেস্ক : আফিয়া বেগম সামিহাকে খুন করতে মাজেদা খাতুন মুন্নীকে ব্যবহার করেন কথিত স্বামী নিয়াজ খান। বিদেশে নেওয়া ও ২ লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে আফিয়াকে খুন করানো হয়। আর নিয়াজের প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করে নেন পাওনা টাকা নিয়ে আফিয়ার উপর ক্ষেপে থাকা তার রুমমেট মুন্নী। ক্ষোভ ও লোভে পড়ে পাটার শিল দিয়ে আঘাত করে আফিয়াকে হত্যা করেন তিনি। হত্যার খবর নিয়াজকে জানাতে রাতে এবং পরদিন সকালে হোয়াসঅ্যাপে কল দিলেও সে রিসিভ করেননি।

রোববার (২৮ আগস্ট) বিকেলে সিলেট মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আমলি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত মাজেদা খাতুন মুন্নী।

তার জবানবন্দি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান বলেন, জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালতের নির্দেশে মুন্নীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নিহতের কথিত স্বামী নিয়াজ খানকেও ৪ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নিয়াজ হত্যার বিষয়ে তথ্য কৌশলে এড়িয়ে যায়। অবশ্য মুন্নী জবানবন্দিতে নিয়াজের নাম বলেছে।

মুন্নীর স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে আদালত সূত্র জানায়, আফিয়ার সঙ্গে মুন্নী সাবলেট থাকতেন। মাসে অন্তত ১৫/১৬ দিন থেকে বাড়িতে যাওয়া-আসা এবং ভাল সম্পর্কও ছিল।কথিত স্বামী নিয়াজের বিরুদ্ধে মামলা চালাতে গিয়ে তার কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে ১৭ হাজার টাকা ধার নেন আফিয়া। টাকা খুঁজলে সে অস্বীকার করলে ক্ষুব্ধ হন তিনি। গত ১৮ আগস্ট তিনি বাসায় যান।২০ আগস্ট রাত ১০টার দিকে পাওনা টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়ার পর রাত ১২টার দিকে রান্নাঘর থেকে পাটার শীল নিয়ে আফিয়ার মাথার বাম পাশে সজোরে পরপর ২টি আঘাত করেন। আঘাতের কারণে বিছানায় লুটে পড়ে আফিয়া, তবে সে মরে যাওয়ার জন্য মারেননি, সে মারা যাবে ভাবতে পারেননি মুন্নী।

জবানবন্দিতে মুন্নী আরো জানায়, আফিয়া জ্ঞান হারানোর পর রাতে বাসার কলাবসিবল গেইট বন্ধ থাকায় বেরিয়ে যেতে পারেননি। পরদিন (২১ আগস্ট) ভোর আনুমানিক সোয়া ৫টার দিকে ভোরবেলা গেইট খুললে রিকশা ডেকে মালামাল নিয়ে বাসার দরজা তালাবদ্ধ করে চলে যান।

জবানবন্দিতে মুন্নী আরো জানান- বালুচরের ওই ভাড়া বাসায় তারা অসামাজিক কার্যকলাপ চালাতেন।তাদের সহযোগিতা করতেন আফিয়ার কথিত স্বামী নিয়াজ। এক পর্যায়ে আফিয়ার সঙ্গে লেনদেন নিয়ে তারও বিবাদ সৃষ্টি হয়। আর নিয়াজের সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিলো না আফিয়ার। এ অবস্থায় নিয়াজের প্রস্তাবে ও নিজের আক্রোশ মেটাতে আফিয়াকে খুন করেন মুন্নী। কিন্তু আফিয়াকে হত্যা করলেও নিয়াজ আর ফোন ধরেননি। পরে র‍্যাবের হাতে তিনি ধরা পড়েন।

গত ২৪ আগস্ট রাত ১২টার দিকে সিলেট নগরের উত্তর বালুচর ফোকাস-৩৬৪ সিকান্দর মহলের নিচতলার বাসায় দরজার তালা ভেঙে আফিয়া বেগমের (৩০) বীভৎস মরদেহ এবং আলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া তার আড়াই বছরের কন্যা শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে পুলিশ। আফিয়াকে অনন্ত ৭৬ ঘন্টা আগে খুন করা হয় বলেও ধারণা ছিল পুলিশের। এ ঘটনায় নিহতের মা কুটিনা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার ছায়া তদন্তে নেমে র‌্যাব-৯ সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) মাজেদা খাতুন মুন্নিকে খুনের ঘটনায় হবিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত মুন্নী (২৯) হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সারংপুর গ্রামের আব্দুল গনির মেয়ে। আর নিহত আফিয়া গোয়াইনঘাটের জাঙ্গাইল গ্রামের আজির উদ্দিনের মেয়ে।

এছাড়া হত্যাকান্ডের ঘটনায় ২৪ আগস্ট রাতে দক্ষিণ সুরমার বরকান্দি থেকে নিহতের কথিত স্বামী ইসমাইল নিয়াজ খানকে আটক করে পুলিশ। সে বরইকান্দি এলাকার ইসমত খানের ছেলে। তাকেও ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা এড়িয়ে যান নিয়াজ।

এদিকে, পুলিশী তদন্তে নিয়াজের অপকর্ম বেরিয়ে আসতে থাকে। মূলত; তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ায় আফিয়ার উপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। নিহত আফিয়া এক নারী চিকিৎসকের বাসার গৃহকর্মী থাকাকালে আশরাফুল নামে এক যুবকের কাছে বিয়ে দেওয়া হয়। আর নিয়াজ তাকে নিয়ে পালিয়ে যান। যে কারণে আগের স্বামী কোনো আইনী প্রক্রিয়ায়ও যাননি। অথচ নিয়াজের স্ত্রী-সন্তান থাকার পরও অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে এসে বিবাহবহির্ভূতভাবে এখানে-ওখানে বাসা ভাড়া করে, কখনো হোটেলে রাতযাপন করেন।অর্থ আয়ে আফিয়াকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত করান।এরমধ্যে তাদের ঔরসে সন্তান জন্ম নিলে আফিয়াকে বিয়ে করতে টালবাহানা করেন নিয়াজ। যে কারণে তার বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ১২ জুলাই কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন আফিয়া।মামলার চার্জশীট দেওয়া হয় ওই বছরের ডিসেম্বরেই।

আসামি দেশ না ছাড়তে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইমিগ্রেশনে চিঠি দিয়ে রাখেন। কিন্ত ধূর্ত নিয়াজ আগেই দেশ ত্যাগ করেন। গত জুন মাসে তিনি দেশে ফিরে ওই মামলায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রেফতার হন। গত ২ আগস্ট কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে আসেন। মুন্নীর সঙ্গে আগে থেকে তার যোগাযোগ ছিল এবং আফিয়াকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে মুন্নীকে বিদেশে নেওয়ার ও ২ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।