সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম ::
আইসিইউতে ভর্তি বিএনপি নেতা মঈন খান পুকুরে টাকা ডুবলেই ‘স্বপ্ন পূরণ পানির নিচে খাদেমের কারসাজি’ সিলেট নগরীতে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু সিলেটে কুড়িয়ে পাওয়া শিশু উর্মির অভিভাবকের সন্ধান চায় পুলিশ বিশ্বকাপ ট্রফি ৫১ দেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু ‘এখানে কিছু টাকা আছে, এটা দিয়ে আমার দাফন-কাফন করিও’ সিলেটে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, দুর্ভোগে মানুষ সিলেটে গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক বড়লেখায় বর্হিবিশ্ব জাতীয়তাবাদী ফাউন্ডেশন নেতৃবৃন্দদের সংবর্ধনা প্রদান হবিগঞ্জে ভারতীয় চাপাতাসহ চোরাকারবারি আটক সোমবার টিসিবির পণ্য বিক্রি স্থগিত জকিগঞ্জে নদীভাঙ্গন পরিদর্শনে বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবি মোতায়েন নায়িকার জন্যই ভাঙল সোহেল-সীমার ২৪ বছরের সংসার! গোলাপগঞ্জে ৬ প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা




মুসলিমরা আল্লাহর উপরই ভরসা করে

r10 - BD Sylhet News




ধর্ম ডেস্ক : মুসলিমরা আল্লাহর উপরই ভরসা করে। আল্লাহ তাআলা সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। তাই আল্লাহর উপর ভরসা করাই মুসলিমদের কর্তব্য। উহুদের যুদ্ধের ঘটনায় মহান আল্লাহ নিজেই এ কথা ঘোষণা করেছেন। যখন মুনাফেকদের দেখাদেখি মুসলিমদের দুইটি দল জনসংখ্যা সল্পতা ও যুদধাস্ত্র সল্পতায় ভীত হয়েছিল। তখন আল্লাহ তাদের প্রতি আয়াত নাজিল করে ঘোষণা করেছিলেন- ’আল্লাহর উপর ভরসা করাই মুসলিমদের কর্তব্য।’ কোরআনুল কারিমে ঘটনাটি এভাবে ওঠে এসেছে-
وَ اِذۡ غَدَوۡتَ مِنۡ اَهۡلِکَ تُبَوِّیٴُ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ مَقَاعِدَ لِلۡقِتَالِ ؕ وَ اللّٰهُ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ
’(স্মরণ করুন) যখন (উহুদ) যুদ্ধের জন্য বিশ্বাসীদেরকে যথাস্থানে সংস্থাপিত করার লক্ষ্যে তুমি তোমার পরিজনবর্গের নিকট থেকে প্রত্যূষে বের হয়েছিলে; এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১২১)

اِذۡ هَمَّتۡ طَّآئِفَتٰنِ مِنۡکُمۡ اَنۡ تَفۡشَلَا ۙ وَ اللّٰهُ وَلِیُّهُمَا ؕ وَ عَلَی اللّٰهِ فَلۡیَتَوَکَّلِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ
’যখন তোমাদের মধ্যে দু’টি দলের মনোবল হারাবার উপক্রম হয়েছিল এবং আল্লাহ ছিলেন উভয়ের সহায়ক। আর বিশ্বাসীদের উচিত, আল্লাহর উপরেই ভরসা করা।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১২২)

وَ لَقَدۡ نَصَرَکُمُ اللّٰهُ بِبَدۡرٍ وَّ اَنۡتُمۡ اَذِلَّۃٌ ۚ فَاتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ
’নিশ্চয়ই বদরের যুদ্ধে আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করেছিলেন, তখন তোমরা ছিলে হীনবল। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১২৩)

আয়াতের প্রসঙ্গিক আলোচনা
এ আয়াতগুলো উহুদ যুদ্ধের ঘটনায় নাজিল হয়েছিল। যা হিজরি ৩য় সনের ৬ শাওয়াল সংঘটিত হয়েছিল। এর সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট হলো- হিজরি ২য় সনে বদরের যুদ্ধে কাফেররা শিক্ষামূলক পরাজয় বরণ করে, তাদের ৭০জন লোক মারা যায় এবং ৭০জন বন্দী হয়। আর এই পরাজয় ছিল তাদের জন্য বড়ই লাঞ্ছনাকর ও অপমানজনক। তাই তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অতি শক্তিশালী এক প্রতিশোধমূলক যুদ্ধের প্রস্ত্ততি গ্রহণ করে এবং এতে তাদের মহিলারাও শরিক হয়। এদিকে মুসলিমরা যখন জানতে পারলেন যে, তিন হাজার কাফের উহুদ পাহাড়ের কাছে যুদ্ধের তাঁবু খাটিয়েছে, তখন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের নিয়ে এ ব্যাপারে পরামর্শ করলেন। তাঁরা মদিনার ভেতরে থেকেই যুদ্ধ করবেন, নাকি মদিনার বাইরে গিয়ে তাদের সঙ্গে লড়বেন।

কোনো কোনো সাহাবি মদিনার ভেতর থেকেই যুদ্ধ করার পরামর্শ দিলেন এবং মুনাফিকদের সর্দার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইও এই মত প্রকাশ করেছিল। কিন্তু উদ্দীপনায় উদ্বুদ্ধ কিছু সাহাবি যাঁরা বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি, তাঁরা মদিনার বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করার কথা সমর্থন করলেন।

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুজরার ভেতরে গিয়ে যুদ্ধের পোশাক পরে বাইরে এলেন। তা দেখে দ্বিতীয় মত প্রকাশকারীগণ অনুতপ্ত হলেন। তাঁরা ভাবলেন, হয়তো আমরা নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইচ্ছার বিপরীত তাঁকে মদিনার বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করতে বাধ্য করে সঠিক কাজ করিনি। তাই তাঁরা বললেন-
’হে আল্লাহর রাসুল! যদি আপনি শহরের ভেতরে থেকে মোকাবেলা করা পছন্দ করে থাকেন, তবে তা-ই করুন! তিনি (নবিজী) বললেন, যুদ্ধের পোশাক পরে নেওয়ার পর কোনো নবির জন্য শোভনীয় নয় যে, তিনি আল্লাহর ফয়সালা ছাড়া ফিরে যাবেন অথবা পোশাক খুলে ফেলবেন।

সুতরাং এক হাজার মুসলিম যোদ্ধা যুদ্ধের জন্য রওনা হয়ে গেলেন। খুব সকালে যখন তাঁরা ‘শাউত্ব’ নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই এই বলে তার ৩ শ সঙ্গীকে নিয়ে ফিরে গেল যে, তার মত গ্রহণ করা হয়নি। সুতরাং অকারণে জান দিয়ে লাভ কি?

তার এই ফায়সালায় সাময়িকভাবে কোন কোন মুসলিম প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং তাঁদের অন্তর দুর্বল হয়ে পড়েছিল।’ (ইবনে কাসির) তখন আল্লাহ তাআলা আয়াত নাজিল করেন-
اِذۡ هَمَّتۡ طَّآئِفَتٰنِ مِنۡکُمۡ اَنۡ تَفۡشَلَا ۙ وَ اللّٰهُ وَلِیُّهُمَا ؕ وَ عَلَی اللّٰهِ فَلۡیَتَوَکَّلِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ
’যখন তোমাদের মধ্যে দু’টি দলের মনোবল হারাবার উপক্রম হয়েছিল এবং আল্লাহ ছিলেন উভয়ের সহায়ক। আর বিশ্বাসীদের উচিত, আল্লাহর উপরেই ভরসা করা।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১২২)
তোমাদের দুটি দল ভীরুতা প্রকাশের সংকল্প করেছিল, অথচ আল্লাহ তাদের সহায় ছিলেন। এ দুই দল হলো আউস গোত্রের বনি হারেসা এবং খাযরাজ গোত্রের বনি সালমা। এরা উভয়ই আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের দেখাদেখি দুর্বলতা প্রদর্শন করেছিল। প্রকৃতপক্ষে নিজেদের মধ্যে দুর্বলতা ছিল না, বরং নিজ দলের সংখ্যাল্পতা ও সাজ-সরঞ্জামের অভাব দেখেই তারা এ ধারণার বশবর্তী হয়ে পড়েছিল।
এ গোত্রদ্বয়ের মধ্য থেকে হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ বলতেন, ’এ আয়াত যদিও আমাদের বনু হারেসা ও বনু সালামাকে উদ্দেশ্য করে নাজিল হয়েছিল এবং আয়াতে আমাদের প্রতি কঠোর বাণী উচ্চারিত হয়েছে ঠিকই কিন্তু (وَاللَّهُ وَلِيُّهُمَا) ব্যাক্যাংশের সুসংবাদও আমাদের লক্ষ্য করেই নাজিল হয়েছে। এ কারণে এ আয়াত নাজিল না হওয়া আমাদের জন্য সুখকর ছিল না।’ (বুখারি, মুসলিম)

আল্লাহর উপর ভরসা করা মুসলিমের কর্তব্য
আয়াতের শেষে বলা হয়েছে- ’আল্লাহর উপর ভরসা করাই মুসলিমদের কর্তব্য। এতে পরিস্কার বলা হয়েছে যে, সংখ্যাধিক্য ও সাজ-সরঞ্জাম ও অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করার পর ভরসা একমাত্র আল্লাহ পাকের উপরই করা দরকার। সাজ-সরঞ্জামের অভাব দেখেই বনি হারেসা ও বনি সালমার মনে দুর্বলতা ও ভীরুতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। আল্লাহর প্রতি ভরসা দ্বারা এর প্রতিকার করা হয়েছে।
আল্লাহর প্রতি যথার্থ ভরসা ও আস্থাই এ জাতীয় কুমন্ত্রণার প্রতিকার। মূলত তাওয়াক্কুল (আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভরসা) মানুষের প্রতি অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ।
হজরত ইয়াদ ইবন গানম আল-আশআরি বলেন, ইয়ারমুকের যুদ্ধে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু পরপর পাঁচজনকে আমির বানিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, যুদ্ধ শুরু হলে একমাত্র আমীর হবে আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ।
যুদ্ধ শুরু হলে যুদ্ধের ময়দান থেকে আমরা ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে লিখলাম, মৃত্যু আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে। আমাদের জন্য সাহায্য পাঠান। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সেটার উত্তরে লিখলেন, সাহায্য চেয়ে পাঠানো পত্র আমার হস্তগত হয়েছে। আমি তোমাদেরকে এমন একজনের সন্ধান দেব যিনি সবচেয়ে বেশী সাহায্য করতে পারেন, যাঁর সেনাবাহিনী সদা প্রস্তুত, তিনি হচ্ছেন- আল্লাহ তাআলা। সুতরাং তোমরা তার কাছেই সাহায্য চাও।
কেননা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদরের দিনে তোমাদের চেয়ে কম সংখ্যা ও অস্ত্র-সস্ত্র নিয়েও কাফেরদের উপর জয়লাভ করেছিলেন। অতএব, যখন আমার এ চিঠি আসবে তখন তোমরা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করবে, এ ব্যাপারে আর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবে না।
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমরা যুদ্ধ করলাম এবং যুদ্ধে জয়লাভ করলাম।’ (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে হিব্বান)
সুতরাং বুঝা গেলো, মুসলিমের প্রকৃত সাহায্যকারী হলেন আল্লাহ তাআলা। আর বান্দা যখন আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করেন, তখন আল্লাহ তাআলা তার হয়ে যান। মুসলিম উম্মাহর উচিত, মহান আল্লাহর উপর ভরসা করা।

পরবর্তী আয়াতে বদরের সেই বিজয়ের কথা তুলে ধরে মুসলিমদের মনোবল চাঙ্গা করে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন-
وَ لَقَدۡ نَصَرَکُمُ اللّٰهُ بِبَدۡرٍ وَّ اَنۡتُمۡ اَذِلَّۃٌ ۚ فَاتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ
’নিশ্চয়ই বদরের যুদ্ধে আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করেছিলেন, তখন তোমরা ছিলে হীনবল। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১২৩)
এ আয়াতে বদরের যুদ্ধের দিকে দৃষ্টি আকৃষ্ট করা হচ্ছে- যাতে মুসলিমরা পুরোপুরি তাওয়াক্কুলের পরিচয় দিয়েছিল এবং আল্লাহ তাআলা তাদের সাফল্য দান করেছিলেন। অর্থাৎ স্মরণ কর, যখন আল্লাহ তাআলা বদরে তোমাদের সাহায্য করেছিলেন; অথচ তোমরা সংখ্যায় ছিলে অতি নগণ্য। আর সে যুদ্ধটি ছিল বদরের যুদ্ধ।’

বদরের যুদ্ধে যোদ্ধাদের সংখ্যা কম ছিল এবং যুদ্ধ-সামগ্রীও অল্প ছিল। এ যুদ্ধে মুসলিম ছিলেন ৩১৩ জন এবং যুদ্ধ-সামগ্রীও ছিল অতি অল্প। শুধু দুটি ঘোড়া এবং সত্তরটি উট এবং অবশিষ্ট সবাই ছিলেন পদাতিক। মুসলিম বাহিনী আল্লাহর উপর যথাযথ তাওয়াক্কুল করার কারণেই মহান আল্লাহ বদরে মুসলিম বাহিনীকে বিজয় দান করেছিলেন।

সুতরাং মুমিন মুসমানের উচিত, সব সময় মহান আল্লাহর উপর তাওয়াক্বুল করা। আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করাই মুসলিম উম্মাহর একান্ত কর্তব্য।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কোরআনের সতর্কতা নিজেদের জীবনে গ্রহণ করে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। গুরুত্বপূর্ণ সব প্রয়োজনে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

শেয়ার করুন...











বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২২
Design & Developed BY Cloud Service BD