BD SYLHET NEWS
সিলেটমঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:৪২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিলেটের পংকজ তালুকদারের গর্বের যাত্রা, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরে কর্মকর্তা


আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মাহমুদ হোসেন খান::-  সিলেট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পেশাজীবন শুরু। এরপর কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন টিলাগড়ের পংকজ তালুকদার। তাঁর এই ব্যতিক্রমী যাত্রা পরিচিতজনদের মধ্যে তৈরি করেছে আগ্রহ ও গর্বের অনুভূতি।

সিলেটের টিলাগড়ের সন্তান পংকজ তালুকদার কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে প্রযুক্তি খাতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। বেসামরিক পেশা থেকে সামরিক জীবনে তাঁর এই পরিবর্তনকে পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন পরিচিতজনেরা।

পংকজ সিলেটের হাতিম আলী উচ্চবিদ্যালয় ও এমসি কলেজে পড়াশোনা শেষ করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক (CUNY) থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর পরিবারের মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সামরিক প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পংকজ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপ ছিল অত্যন্ত কঠিন। দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক সক্ষমতা, সহনশীলতা ও মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাঁকে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের অনেক দিন ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে শুরু হয়ে রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত চলেছে। সীমিত বিশ্রামের মধ্যেও প্রতিদিন নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণেও ছিল কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি। প্রায় ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় টানা চার দিন জঙ্গলে অবস্থান করে প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে তাঁকে। প্রচণ্ড গরম, সাপ, পোকামাকড় ও শারীরিক ক্লান্তির মধ্যেও চালিয়ে যেতে হয়েছে প্রশিক্ষণ।

প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে এম৪ রাইফেল চালানো, জীবন্ত গ্রেনেড নিক্ষেপ, মাইন শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন ধরনের দুর্গম বাধা অতিক্রমের প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেন পংকজ। প্রায় পাঁচ মাসের কঠোর প্রশিক্ষণে তাঁর ওজন কমে যায় ২৬ পাউন্ড। পাশাপাশি প্রায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দৌড়াতে হয়েছে তাঁকে।

এর মধ্যে অন্যতম কঠিন ধাপ ছিল কাঁধে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ পাউন্ড ওজনের ব্যাগ নিয়ে টানা ১০ মাইল হাঁটা। কখনো মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে হয়েছে। শারীরিক ক্লান্তি থাকলেও প্রশিক্ষণ থেকে বিরত থাকার সুযোগ ছিল না বলে নিজের অভিজ্ঞতায় জানান তিনি।

পংকজ বলেন, প্রশিক্ষণের সময় অনেক ক্ষেত্রে শরীর পুরোপুরি ক্লান্ত হয়ে পড়লেও মানসিক শক্তি ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হয়েছে। পরিবার ও পরিচিত পরিবেশ থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকাও ছিল তাঁর জন্য একটি বড় মানসিক চ্যালেঞ্জ। এমনকি প্রশিক্ষণের সময় মুঠোফোন ব্যবহারের সুযোগও ছিল সীমিত। কখনো মাত্র ৩০ মিনিটের জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

দীর্ঘ ও কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পংকজ তালুকদার। নিজের এই অর্জনকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একজন সদস্য।”

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পংকজ আরও বলেন, “এই পথ সহজ ছিল না। কিন্তু প্রতিটি কষ্ট সার্থক হয়েছে। কষ্ট ছিল সাময়িক, গর্ব থাকবে চিরদিন।”

সিলেট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্রযুক্তি খাতে পেশাজীবন শুরু করার পর সামরিক বাহিনীর কঠোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে ইঞ্জিনিয়ার কোরে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পংকজের এই যাত্রা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার। তাঁর পরিচিতজনেরা মনে করছেন, কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায় থাকলে একজন মানুষ নিজের জীবনের লক্ষ্য কতটা দূর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেন—পংকজ তালুকদারের পথচলা তারই একটি উদাহরণ।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।