এই শহরে হঠাৎ হাওয়া বদলাতে শুরু করেছে। আগে বাতাস ছিলো অভিজাত এলাকা হাউজিং স্টেটের দিকে। ঝড় তুফানের বাতাস। শুধু উড়েছে। ডানা মেলে উড়েছে। হঠাৎ কি হলো -হাউজিং স্টেটে এখন বাতাস নেই।
এরপর ফেঞ্চুগঞ্জের হাতে ঘুড়ি নাটাই দুটোই দেয়া হলো। ইচ্ছেমত উড়েছে। কেন জানি মনে হচ্ছে নাটাই সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
মনে হচ্ছে বাতাস এখন তাঁতিপাড়ার দিকে। একেবারে ফাগুনের দক্ষিনা হাওয়া। ফুলের মৌ মৌ সৌরভ আর ঝড় তোলা বাতাস। বাতাস, ঝড়, ঘুড়ি নাটাই এই শব্দগুলো ব্যবহার করেছি সিসিকের মেয়র নির্বাচন নিয়ে।
গত কয়েক সপ্তাহ থেকে সবাই দেখেছে কিছু একটা পরিবর্তন হচ্ছে। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন দুই মাস আগেও সিসিকের মেয়র পদে আলোচনায় ছিলেন না। গত কয়েকদিন ধরে তিনি এখন বেশ আলোচনায়। সম্ভবত আলোচনার শীর্ষে। তার কিছু লক্ষন এখন নগরজুড়ে। এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিজের ছবি দিয়ে বিশাল ব্যানার লাগিয়েছেন। সনাতন ধর্মাবলীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।নগরীর প্রতিটি পূজামন্ডপের সামনে নাসিম হোসেনের ব্যানার লাগানো হয়েছে। এছাড়া ফেসবুক জুড়ে নাসিম হোসেনের অনুসারীরা তাকে মেয়র দেখতে চায় এমন পোস্ট করছে। আর এ নিয়ে তাই সরগরম সিলেটের রাজনীতি।
সবাই বলাবলি করছে বাতাস এখন কোন দিকে? তাঁতিপাড়া এতো ফাগুন হাওয়া এলো কি করে? তাহলে কি সিগন্যাল চেঞ্জ।
সিগন্যাল এর কথাবার্তা কেন? আসলে সিলেট-১ আসনে যিনি এমপি তিনিই মূলত সিলেটের দলীয় মেয়র প্রার্থী নির্ধারণে একটা ভূমিকা রাখেন।
এমপি, মন্ত্রী, মেয়র মিলে উন্নয়নে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। কোনভাবে মেয়র পদটি যদি নিজের পছন্দের আস্থাভাজন না হয় তাহলে সঠিক উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সে ক্ষেত্রে সিলেট-১ আসনের এমপি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির তার চিন্তা, উন্নয়ন ভাবনাগুলো এগিয়ে নিতে আস্থাভাজন পছন্দের কাউকে চাইবেন।
আর ব্যাক বেঞ্চ থেকে আবারো সিলেট নগর বিএনপির লাইমলাইটে ফিরে আসা নাসিম হোসেনের পক্ষে চলমান প্রচারনা দেখে অনেকে মন্তব্য করেছে বাতাস কি তাহলে তাঁতিপাড়ায় চলে এসেছে। নিশ্চই ভালো কোন সিগন্যাল পেয়েছেন তিনি! না হলে এভাবে উঠেপড়ে মেয়র প্রচারণায় নামতেন না।
