BD SYLHET NEWS
সিলেটবৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:৪৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মৃত্যুর পর যে ৯ বিষয়ে মানুষ আফসোস করবে


অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো—যে সময়টি হাতে আছে, তার মূল্য না বোঝা। সুস্থতা থাকলে মনে হয় অসুস্থ হওয়ার সময় এখনো অনেক দূরে; অবসর থাকলে মনে হয় কাজ করার সময় পরে পাওয়া যাবে; জীবন থাকলে মনে হয় মৃত্যুর কথা এখন ভাবার প্রয়োজন নেই।

অথচ সময় একবার চলে গেলে তা আর ফিরে আসে না। আর যখন মৃত্যুর পর মানুষের সামনে বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে যাবে, তখন সে এমন অনেক বিষয়ের জন্য আফসোস করবে, যেগুলো দুনিয়াতে থাকতেই সহজে অর্জন করা সম্ভব ছিল।

পবিত্র কোরআন মানুষের সেই অনিবার্য আফসোসের চিত্র অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় তুলে ধরেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হবে, তখন সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে ফিরিয়ে দিন।

যাতে আমি যা ছেড়ে এসেছি, সেখানে সৎকাজ করতে পারি।’ কিন্তু তখন বলা হবে, ‘কখনোই নয়! এটা তো এমন একটি কথা, যা সে শুধু বলছে।’(সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৯৯–১০০)

মৃত্যুর পর মানুষ যে ৯ বিষয়ে আফসোস করবে

১. সৎকাজ করার আরো সুযোগ না পাওয়ার আফসোস

মৃত্যুর পর মানুষের সবচেয়ে বড় আফসোস হবে—সে কেন আরও বেশি নেক আমল করল না। দুনিয়ায় তার হাতে ছিল সময়, সামর্থ্য ও সুযোগ; কিন্তু সে সেগুলো অবহেলায় কাটিয়ে দিয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে আমার রব! আপনি আমাকে অল্প কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দিলে আমি দান-সদকা করব এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হব।’ (সুরা : মুনাফিকুন, আয়াত : ১০)

কিন্তু মৃত্যুর সময় এসে গেলে সেই আবেদন আর গ্রহণ করা হবে না। তাই যে দান আজ করা সম্ভব, যে নামাজ আজ পড়া সম্ভব, যে তাওবা আজ করা সম্ভব—তা কাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

২. সময় নষ্ট করার জন্য আফসোস

সময় মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। টাকা হারিয়ে গেলে তা কখনো কখনো আবার উপার্জন করা যায়; কিন্তু জীবনের একটি মুহূর্ত চলে গেলে পৃথিবীর সব সম্পদ দিয়েও সেটি ফিরিয়ে আনা যায় না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত—সুস্থতা ও অবসর।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪১২)
আজ যে অবসর সময়টি মোবাইল, অপ্রয়োজনীয় বিনোদন, অনর্থক কথাবার্তা কিংবা অন্যের দোষচর্চায় চলে যাচ্ছে—একদিন সেই সময়ের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব দিতে হবে। তখন মানুষ বুঝবে, সামান্য কিছু সময়ও কত মূল্যবান ছিল।

৩. নামাজে অবহেলার জন্য আফসোস

দুনিয়াতে অনেক মানুষ নামাজের সময় পেলেও নামাজকে গুরুত্ব দেয় না। কখনো কাজের অজুহাত, কখনো ঘুম, কখনো ব্যবসা কিংবা বিনোদন তাকে নামাজ থেকে দূরে রাখে। আখিরাতে এসে সে বুঝবে—যে নামাজকে দুনিয়ায় কয়েক মিনিটের কাজ মনে হয়েছিল, সেটিই ছিল তার রবের সঙ্গে সম্পর্কের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের কী কারণে সাকার (জাহান্নামে) প্রবেশ করিয়েছে?’ তারা বলবে, ‘আমরা নামাজ আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।’ (সুরা : মুদ্দাসসির, আয়াত : ৪২–৪৩)

তাই নামাজকে ‘সময় পেলে পড়ব’—এমন কাজ না বানিয়ে জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

৪. আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল থাকার আফসোস

দুনিয়ার ব্যস্ততায় মানুষ সম্পদ, ব্যবসা, ক্যারিয়ার, সামাজিক মর্যাদা ও বিনোদনের পেছনে ছুটতে ছুটতে নিজের রবকে ভুলে যায়। কিন্তু মৃত্যুর পর সে বুঝবে—যার সন্তুষ্টির জন্য জীবন দেওয়া হয়েছিল, তাঁকেই সবচেয়ে বেশি স্মরণ করা প্রয়োজন ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে।’ (সুরা : মুনাফিকুন, আয়াত : ৯)

৫. তাওবা দেরি করার জন্য আফসোস

অনেক মানুষ জানে যে তার জীবনে ভুল রয়েছে। সে জানে কোনো কাজ হারাম, কোনো সম্পর্ক অন্যায়, কোনো অভ্যাস গুনাহের; তবু বলে—‘পরে তাওবা করব।’ কিন্তু ‘পরে’ শব্দটির কোনো নিশ্চয়তা নেই। মৃত্যু বয়স দেখে আসে না। তাই গুনাহ হয়ে গেলে দ্রুত তাওবা করাই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা মন্দ কাজ করতে থাকে, অতঃপর যখন তাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলে, “আমি এখন তাওবা করছি”—তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য নয়।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৮)

৬. দান-সদকা না করার আফসোস

মৃত্যুর সময় মানুষ তার সম্পদের প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারবে। তখন সে চাইবে—তার সম্পদের কিছু অংশ যদি আল্লাহর পথে ব্যয় করত! এ কারণেই আল্লাহ তাআলা মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তের মানুষের আকুতি উল্লেখ করেছেন, ‘তাহলে আমি দান-সদকা করব এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হব।’ (সুরা : মুনাফিকুন, আয়াত : ১০)

আজ আমাদের হাতে থাকা সম্পদ দিয়ে একটি অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, একজন অভাবীকে সাহায্য করা, মসজিদ-মাদরাসা বা কল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতা করা সম্ভব। কিন্তু মৃত্যুর পর সম্পদ থাকবে, মালিক থাকবে না; অথবা মালিক থাকবে, কিন্তু ব্যয় করার সুযোগ থাকবে না।

৭. পরিবার-সন্তানকে দ্বীনের পথে গড়ে না তোলার আফসোস

মানুষ সন্তানদের জন্য ভালো খাবার, পোশাক, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কত পরিশ্রম করে। কিন্তু তাদের ঈমান, নামাজ, চরিত্র ও আখিরাতের প্রস্তুতির ব্যাপারে অনেক সময় উদাসীন থাকে। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারকে আগুন থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৬)

৮. মানুষের হক নষ্ট করার আফসোস

আল্লাহর হক নষ্ট করলে তাওবার মাধ্যমে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু মানুষের অধিকার নষ্ট করলে বিষয়টি আরও গুরুতর। কারও সম্পদ আত্মসাৎ করা, কারও ওপর জুলুম করা, অপমান করা, গিবত করা কিংবা অন্যায়ভাবে কষ্ট দেওয়া—এসবের হিসাব আখিরাতে দিতে হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ‘মুফলিস’ বা নিঃস্ব ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন—কেউ নামাজ, রোজা ও জাকাত নিয়ে আসবে; কিন্তু সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারও ওপর অপবাদ দিয়েছে, কারও সম্পদ ভক্ষণ করেছে, কারও ওপর জুলুম করেছে। ফলে তার নেক আমলগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৮১)

তাই মৃত্যুর আগে মানুষের হক আদায় করা এবং যাদের কষ্ট দিয়েছি তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

৯. কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার আফসোস

দুনিয়াতে কোরআন ছিল আমাদের সামনে, কিন্তু আমরা হয়তো তা পড়ার সময় বের করিনি; বুঝতে চেষ্টা করিনি; জীবনে বাস্তবায়ন করিনি। অথচ কিয়ামতের দিন কোরআনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কই আমাদের জন্য সম্মান কিংবা বঞ্চনার কারণ হতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কোরআন পাঠ করো। কারণ কিয়ামতের দিন তা তার সঙ্গীদের জন্য সুপারিশকারী হয়ে আসবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮০৪)

তাই মৃত্যুর পর আফসোস না করে মৃত্যুর আগেই নিজের জীবনকে সংশোধন করতে হবে। আজই নামাজ ঠিক করা, আজই গুনাহ থেকে তাওবা করা, আজই কারও হক ফিরিয়ে দেওয়া, আজই কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা, আজই সামর্থ্য অনুযায়ী দান করা এবং আজই পরিবারকে দ্বীনের পথে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।