BD SYLHET NEWS
সিলেটসোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৪:১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কফি নাকি গ্রিন টি, হার্ট ও উচ্চ রক্তচাপের জন্য কোনটি ভালো?


আগস্ট ২২, ২০২৬ ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সুস্থ থাকতে কিংবা দিনের শুরু করতে অনেকেই এক কাপ কফি পা গ্রিন টি পান করেম। অনেকে আবার হার্টের স্বাস্থ্য আর উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্যও এই পানীয় দুটির ওপর ভরসা রাখেন।কিন্তু প্র শ্ন থেকেই যায় যে উচ্চরক্তচাপ কিংবা হার্টের জন্য কোনটি বেশি উপকারী। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় এই প্রশ্নের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। খবর এনডিটিভি

একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা এই প্রশ্নের কিছুটা উত্তর দিয়েছে। গবেষণাটি পরিচালিত হয় জাপান কোলাবরেটিভ কোহর্ট স্টাডি ফর এভালুয়েশন অব ক্যান রিস্ক এর আওতায় এবং এর ফল প্রকাশিত হয় জার্নাল অব দ্য আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনে। গবেষণায় প্রায় ১৮ হাজার মানুষকে ১২ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গবেষকদের লক্ষ্য ছিল নিয়মিত কফি ও গ্রিন টি পান করার সঙ্গে রক্তচাপ এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা বোঝা। এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো ক্যাফেইনের পরিমাণ। সাধারণত এক কাপ কফিতে প্রায় ৯৫ থেকে ২০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে।

বিপরীতে এক কাপ গ্রিন টিতে থাকে প্রায় ৩৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন। অর্থাৎ, একই পরিমাণে কফিতে গ্রিন টির তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ক্যাফেইন থাকতে পারে। ক্যাফেইন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কফি পান নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, গবেষণাটির ফল অনুযায়ী, উচ্চ রক্তচাপ থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গ্রিন টি কফির তুলনায় বেশি অনুকূল বলে দেখা গেছে। বিশেষ করে যাদের রক্তচাপ অনেক বেশি, তাদের মধ্যে কফি পান করার সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক পাওয়া যায়।

অন্যদিকে গ্রিন টির ক্ষেত্রে এমন সম্পর্ক দেখা যায়নি। এর পেছনে গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন ও অন্যান্য পলিফেনল ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হয়। এসব যৌগ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং হৃদযন্ত্রের জন্য সম্ভাব্য উপকারী প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে, কফি খেলেই হার্টের ক্ষতি হবে বা গ্রিন টি খেলেই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। ব্যক্তিভেদে ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং অন্যান্য খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রিন টি পানের অন্যান্য উপকারিতা
গ্রিন টি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় আরো কিছু সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারের কথা উঠে এসেছে। এগুলো হল—

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: গ্রিন টি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। গ্রিন টি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা সর্দি, ফ্লু এবং কাশি থেকে সুরক্ষা দেয়।

মস্তিষ্কের জন্য উপকারী : গ্রিন টির ক্যাটেচিন ও অন্যান্য যৌগ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: গ্রিন টি বিপাকক্রিয়া ও চর্বি ব্যবহারে সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এটি কোনো ‘ম্যাজিক’ ওজন কমানোর পানীয় নয়।

মুখের দুর্গন্ধ কমায়: এটি গ্রিন টি-এর অন্যতম উপকারিতা, যা সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। গ্রিন টির কিছু উপাদান মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে সহায়তা করে আর এতে মুগের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়: কিছু গবেষণায় গ্রিন টি ও ইনসুলিন সংবেদনশীলতার মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কফি বনাম গ্রিন টি সুস্থ থাকার লড়াইয়ে গ্রিন টি এগিয়ে। তবে একটি পানীয়টিকে ‘ওষুধ’ হিসেবে খাওয়া যাবে না। আপনি প্রতিদিন গ্রিন টি পান করতে পারেন কিন্তু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস আর ওষুধ বাদ দিতে পারেন না।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।