BD SYLHET NEWS
সিলেটবৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:০৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কমলগঞ্জে ছড়ার বালু লোপাটে বেপরোয়া চক্র


জুলাই ২৩, ২০২৬ ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক পাহাড়ি ছড়া থেকে বেপরোয়াভাবে সিলিকা বালু লোপাটের হিড়িক শুরু হয়েছে। মানা হচ্ছে না উচ্চ আদালতের রায়। অবৈধভাবে এসব সিলিকা বালু উত্তোলনের ফলে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছড়ার বাঁধ, টিলা, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি। এতে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাপক হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও প্রতিবেশ।

খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর অনুমোদিত তথ্যমতে, মৌলভীবাজার জেলায় ৩৩টি সিলিকা বালু কোয়ারি রয়েছে। ২০১৩ সালের ১৮ জুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) জেলার ৫১টি পাহাড়ি ছড়াকে সিলিকা বালু সম্পৃক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে।

এর মধ্যে ১৯টি ছড়া অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইজারাদারদের অনিয়ন্ত্রিত ও বেআইনি বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিপর্যয় দেখা দিলে ২০১৬ সালের ৮ মার্চ বেলা জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। শুনানি শেষে ২১ মার্চ হাইকোর্টের ডিভিশন ওই ১৯টি বালুমহালে পরবর্তী ইজারা প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কমলগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি দেওছড়া, সুনছড়া, জপলাছড়া, লাউয়াছড়াসহ বিভিন্ন ছড়া থেকে অবাধে সিলিকা বালু উত্তোলন চালানো হচ্ছে। উত্তোলিত বালুবাণিজ্যের সঙ্গে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল সম্পৃক্ত থাকায় প্রশাসন কার্যত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারছে না।

স্থানীয়রা জানান, বালুখেকো চক্রটি খুবই বেপরোয়া। তারা শ্রমিক দিয়ে বালু তুলে ট্রাক, পিকআপ, ট্রলি ও ঠেলাগাড়িতে করে দ্রুত পরিবহন ও বিক্রি করছে। প্রশাসনের লোহজনের আসার খবর আগেভাগেই টের পেয়ে সরে পড়েন সংশ্লিষ্টরা এবং অভিযান শেষ হলেই পুনরায় কাজে নেমে পড়েন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আক্তার জানান, ইজারা ছাড়া বালু উত্তোলন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এটি ঠেকানোর প্রাথমিক দায়িত্ব প্রশাসনের। যাঁরা এই অবৈধ কাজের সুযোগ করে দিচ্ছেন, তাঁরা মূলত উচ্চ আদালতের রায় অবমাননা করছেন।

অভিযানের বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে আসা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি দেওছড়া এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।পরবর্তীকালে সিলিকা বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে প্রশসনের পক্ষ থেকে অভিযানে পাঠানো হলে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। অন্য ছড়াগুলো থেকেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।