২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট কে প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার (১২জুন) বিকাল সাড়ে ৫টায় ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের হয়ে আম্বরখানা পয়েন্টে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সিলেট জেলা বাসদ আহ্বায়ক আবু জাফরের সভাপতিত্বে ও জেলা সদস্য সচিব প্রণব জ্যোতি পালের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা সদস্য জুবায়ের আহমদ চৌধুরী সুমন, উজ্জ্বল রায়,নাজিকুল ইসলাম রানা, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সহ-সভাপতি জহর সিংহ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সহ-সভাপতি শহিদ আহমদ, সংগ্রাম পরিষদের হোসেন আহমদ, তৌফিক এলাহী, সৈকত আহমদ, মাহফুজ আহমদ, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রণ্ট প্রিতম রায় প্রমূখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, এযাবৎকালের বড় বাজেট ঘোষণা হয়েছে কিন্তু আর্থিক সংস্থান পরিকল্পনা সেই পুরনো পথেই রয়েছে। অর্থাৎ ধনীদের প্রত্যক্ষ করের তুলনায় সাধারণ মানুষের উপর পরোক্ষ কর চাপিয়ে বাজেটের টাকার সংস্থান করা হবে। ফলে বাজেট ঘাটতি, দেশি বিদেশি ঋণ গ্রহণ, ঋণের সুদ পরিশোধে বিপুল অর্থ বরাদ্দ এবং কথার চমক রয়েছে এই বাজেটে।
বক্তারা বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি এবং সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার প্রস্তাব আছে বাজেটে। এ বছর ঋণের সুদ বাবদ শোধ দিতে হবে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা যা বাজেটের সবচেয়ে বড় খাত। এই তথ্যগুলো মাথায় রেখে বাজেট প্রস্তাবনা এবং বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া দরকার ছিল। কিন্তু তা না করার ফলে নতুন আশার কথা শুনিয়ে গতানুগতিক পুরনো পথেই হাঁটবে সরকার।
বক্তারা বলেন, গত অর্থ বছরে কেন রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয় নি, কেন ঋণ খেলাপিদের টাকা আদায় করা যায় নি, কেন ব্যাংক খাত সচল ও শক্তিশালী করা যায় নি, মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নামানো যায় নি, বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা যায় নি, বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানি খাতে দুর্নীতির চক্র না ভেঙ্গে গ্রাহকের কাধে বাড়তি দামের বোঝা চাপাতে হয়েছে সেই পর্যালোচনা খুব জরুরি ছিল। কিন্তু তার প্রতিফলন অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় নাই।
বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের মৌল চেতনায় বৈষম্যহীন রাষ্ট্র নির্মাণের লক্ষ্যে সংশোধিত বাজেট প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান।
