মিথ্যা বলাকে অনেকেই নিজেকে বাঁচানোর কৌশল হিসেবে মনে করেন, তবে মজার বিষয় হলো কিছু নির্দিষ্ট আচরণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মিথ্যাবাদী শনাক্ত করা সম্ভব।
রূপকথার পিনোকিওর মতো মিথ্যা বললে বাস্তব জীবনে নাক লম্বা না হলেও মানুষের আচরণে এমন কিছু পরিবর্তন আসে যা ব্রাইট সাইটের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সাধারণত কেউ যদি আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে প্রসঙ্গ পাল্টানোর চেষ্টা করে বা অপ্রাসঙ্গিক কথা বলতে থাকে, তবে ধরে নেওয়া যায় সে সত্য গোপন করছে। সরাসরি উত্তর দিতে না পেরে মানুষ প্রায়ই কথা এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল অবলম্বন করে।
কোনো বিষয়ে অস্পষ্ট উত্তর দেওয়া মিথ্যা বলার অন্যতম লক্ষণ। যদি কেউ আপনার প্রশ্নের উত্তর স্পষ্টভাবে না দিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করে, তবে তাকে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট উত্তর দিতে বাধ্য করা উচিত।
এছাড়া অনেকে প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উল্টো প্রশ্নটিই বারবার করতে থাকে, যা সময়ক্ষেপণ বা মিথ্যা সাজানোর একটি প্রচেষ্টা মাত্র। গুরুত্বের সঙ্গে উত্তর না দিয়ে কোনো কথা হেসে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও মিথ্যা বলার ইঙ্গিত দেয়। যখন কেউ কোনো সিরিয়াস আলাপে অপ্রয়োজনীয় হাসাহাসি করে, তখন তার সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকে।
অতিরিক্ত সততা প্রদর্শন বা মাত্রাতিরিক্ত সহানুভূতি দেখানোও অনেক সময় প্রতারণার কৌশল হতে পারে। কেউ খুব বেশি সহানুভূতি দেখালে তাকে অবিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়ে, আর এই সুযোগটিই মিথ্যাবাদীরা গ্রহণ করে আপনাকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য।
এছাড়া আপনার একটি প্রশ্নের বিপরীতে যদি কেউ একাধিক পাল্টা প্রশ্ন করতে থাকে কিংবা আচমকা খুব শান্ত বা শীতল হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে সে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অভিনয় করছে। এই লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকলে খুব সহজেই মানুষের কথার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।
