ময়মনসিংহের পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস ও শরীয়তপুরের ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার নরসিংদীতে এক ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার রাত ১১টার দিকে পলাশ উপজেলার চরসিন্ধুর বাজারে যে ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন তার নাম মনি চক্রবর্তী।
পলাশ থানার ওসি শাহেদ আল মামুন জানান, নিহত মনি চক্রবর্তী শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের মদন ঠাকুরের ছেলে।
৪০ বছর বয়সী এ মুদি ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে চরসিন্দুর বাজারে মুদির দোকান চালিয়ে আসছিলেন। তাকে হত্যার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।
নরসিংদীর ব্যবসায়ী মনি চক্রবর্তীকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তিনজন হিন্দু ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হল।
এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ময়মনসিংহের ভালুকার জামিরদিয়া এলাকায় ‘পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কোম্পানির’ শ্রমিক ২৮ বছর বয়সী দিপুকে দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর তার লাশ গাছের ডালের সঙ্গে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ধর্ম নিয়ে ‘কটূক্তির’ অভিযোগে ময়মনসিংহে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা
তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে দিপু দুই বছর ধরে তিনি এই কোম্পানিতে কাজ করছিলেন।
দিপুকে হত্যার ১৩ দিনের মাথায় ৩১ ডিসেম্বর শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাতের পর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়।
তিনদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকাল ৮টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
দিপু ও খোকনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা সাড়াদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এই দুই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নরসিংদীর মনি চক্রবর্তীর হত্যার খবর এল।
মনি চক্রবর্তী হত্যার ঘটনার বর্ণনায় পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছে, তিনি সোমবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা টের পেয়ে মনিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পলাশ থানার ওসি শাহেদ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অপরাধীদের আটক করতে কাজ করছে পুলিশ। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
