২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিতে ইচ্ছে প্রকাশ করেছে ৭০% ভোটার। এর বিপরীতে ১৯ শতাংশ ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে আগ্রহী। নতুন দল এনসিপি পেয়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ সমর্থন। অন্যান্যদের মধ্যে জাতীয় পার্টির জনসমর্থন ১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ০ দশমিক ১ শতাংশ। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট দেওয়ার অভিপ্রায় নিয়ে করা এক জনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার বিকেলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের সেমিনার হলে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে করা এ জরিপ তুলে ধরা হয়। এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) এ জরিপ করেছে।
জাতীয় জনমত জরিপটি সারাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসন থেকে মোট ২০,৪৯৫ জনের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন সংগঠনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ডা. শামীম হায়দার তালুকদার।
জরিপের লিঙ্গ ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তা তুলনামূলকভাবে বেশি। জরিপে অংশ নেওয়া নারী ভোটারদের ৭১ শতাংশ বিএনপিকে সমর্থন করছেন, যা দলটির প্রতি নারী ভোটারদের আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বরিশাল-খুলনায় জামায়াত এগিয়ে
আঞ্চলিক বিশ্লেষণেও বিএনপির শক্ত অবস্থান স্পষ্ট। চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে দলটির প্রতি সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পাওয়া গেছে। তবে বরিশাল ও খুলনায় জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। বরিশালে দলটির সমর্থন ২৯ শতাংশ এবং খুলনায় ২৫ শতাংশ। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের রংপুর অঞ্চলে জাতীয় পার্টি তুলনামূলকভাবে বেশি সমর্থন পেয়েছে, যেখানে দলটির পক্ষে মত দিয়েছেন ৫ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার।
জরিপ অনুযায়ী, ৭৭ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন যে আগামী নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে ৭৪ শতাংশ ভোটার মনে করেন, তাঁদের নিজ নিজ আসনে বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করবেন।
আওয়ামী লীগের ২৫% ভোটার জামায়াতকে ভোট দিবে
জরিপে আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের বর্তমান রাজনৈতিক আগ্রহ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পূর্বে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছেন। এদের মধ্যে ৬০ শতাংশ আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের ২৫ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং বাকি ১৫ শতাংশ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
