BD SYLHET NEWS
সিলেটশুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১১:৩৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যে দুই অঙ্গ মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে


মে ১৩, ২০২৫ ২:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইসলাম ডেস্ক : কথার মাধ্যমে পরস্পর বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়, আবার কথার দ্বারা তৈরি হয় শত্রুতা। কথা বলার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করে জিহ্বা। সেই অর্থে মানবদেহের সব অঙ্গ জিহ্বার ওপর নির্ভরশীল। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন আদম সন্তান ভোরে ওঠে তখন তার অঙ্গগুলো জিহ্বাকে বিনয়ের সঙ্গে বলে, আমাদের সম্পর্কে আল্লাহকে ভয় করো।

কেননা আমরা সবাই তোমার সঙ্গে জড়িত। সুতরাং তুমি ঠিক থাকলে আমরাও ঠিক থাকব। আর তুমি বাঁকা হলে আমরাও বাঁকা হয়ে পড়ব।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪০৭)

কথায় মেলে জান্নাত, কথায় মেলে জাহান্নাম।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই বান্দা কখনো আল্লাহর সন্তুষ্টির কোনো কথা বলে অথচ সে কথা সম্পর্কে তার চেতনা নেই। কিন্তু এ কথার দ্বারা আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আবার বান্দা কখনো আল্লাহর অসন্তুষ্টির কথা বলে ফেলে যার পরিণতি সম্পর্কে তার ধারণা নেই, অথচ সে কথার কারণে সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৮)

মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে দুটি এমন আছে, যেগুলো মানুষের জাহান্নামে যাওয়ার অন্যতম কারণ হবে।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, কোন কর্মটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আল্লাহভীতি, সদাচার ও উত্তম চরিত্র। আবার তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, কোন কাজটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, মুখ ও লজ্জাস্থান। (তিরমিজি, হাদিস : ২০০৪)
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মাঝের বস্তু (জিহ্বা) এবং দুই ঊরুর মাঝখানের বস্তু (লজ্জাস্থান) এর জামানত আমাকে দেবে, আমি তাঁর জান্নাতের জিম্মাদার। (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৪)

মুখের ভাষা দুর্ভোগ ও বিপর্যয় ডেকে আনে। পবিত্র কোরআনে এসেছে—‘দুর্ভোগ এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে (সামনাসামনি) মানুষের নিন্দা করে আর (অসাক্ষাতে) দুর্নাম করে।’ (সুরা হুমাজা, আয়াত : ১)

অশ্লীল কথাবার্তা খারাপ চরিত্রের লক্ষণ। কাম-প্রবৃত্তিতাড়িত হয়ে মানুষ সাধারণত অশ্লীল কথা বলে থাকে। আবার ক্রোধের বশবর্তী হয়েও মানুষ এ ধরনের অশালীন কথাবার্তা বলে থাকে। ইসলামে অশালীন ও অশ্লীল কথাবার্তা বলা নিষিদ্ধ। এমন ঘৃণ্য কর্মে যারা অভ্যস্ত, নিরীহ জনসাধারণ তাদের অন্তর থেকে ঘৃণা করে এবং পারতপক্ষে তাদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। আয়েশা (রা.) বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে আয়েশা! নিকৃষ্টতম লোক হচ্ছে ওই ব্যক্তি, যাকে তার অশ্লীলতার জন্য লোকে পরিত্যাগ করে বা বর্জন করে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৯৬)

অহংকারমূলক কথা ধ্বংস ডেকে আনে। অহংকার হচ্ছে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং অন্যকে হীন, ক্ষীণ, দুর্বল ভাবা এবং তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা। এমনটিই বলেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ওই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ অহংকার থাকবে। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, নিশ্চয়ই একজন মানুষ পছন্দ করে যে তার পোশাক সুন্দর হোক এবং তার জুতা সুন্দর হোক। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সুন্দরকে ভালোবাসেন। অহংকার হচ্ছে সত্য প্রত্যাখ্যান করা ও অন্যকে তুচ্ছজ্ঞান করা।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৯৯)

সত্য, সুন্দর ও সঠিক কথা বলতে না পারলে চুপ থাকবে। এটা নবীজির নির্দেশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস পোষণ করে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৫)

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।