BD SYLHET NEWS
সিলেটমঙ্গলবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:৩৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ ব্যবসায়ী নিহত


অক্টোবর ২০, ২০২৬ ২:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকায় বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়িক কাজে রাজশাহীর তাহেরপুরে যাওয়ার পথে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার জহির উদ্দিন মাদবরের ছেলে জুয়েল মাদবর, ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি এলাকার জাহান উদ্দিন মোল্যার ছেলে সালাল মোল্যা, ডুবিসায়বর কাজিরহাট এলাকার ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার, কাজিরহাট এলাকার ভুসামাল ব্যবসায়ী সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার রাজ্জাক বেপারীর ছেলে শাহিন বেপারী। শাহিন হলুদের ব্যবসা করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত পাঁচজনই জাজিরার কাজিরহাট ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছিলেন। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তারা রাজশাহীর তাহেরপুরে যাচ্ছিলেন। সেখানে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়াসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কেনার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।

নাটোরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ১৪, বরগুনা থেকে রওনা হয়েছিল বাসটি
নিহত জুয়েল মাদবর ভুসামালের পাশাপাশি কাজিরহাটে রড-সিমেন্টের ব্যবসা করতেন। সামাদ ফকির ভুসামালের ব্যবসা করতেন। শাহিন বেপারী ছিলেন হলুদ ব্যবসায়ী। স্থানীয় ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সালাল মোল্যা ও সোহাগ শিকদারও বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

একই এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী হওয়ায় পাঁচজনের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয় ও সুসম্পর্ক ছিল। ব্যবসায়িক কাজে একসঙ্গে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তারা। কিন্তু পণ্য কেনার সেই যাত্রাই তাদের শেষ যাত্রা হয়ে উঠল।

কাজিরহাটের ব্যবসায়ী দিদার সরদার বলেন, ‘ব্যবসার কারণে তাদের সবার সঙ্গেই আমার পরিচয় ছিল। তাদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক ছিল। তাদের এমন মৃত্যুর খবর খুবই কষ্টদায়ক।’

এর আগে, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধারকর্মীরা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহমেদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনার বিষয়টি জেনেছি। তবে এখনও নাটোরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। মরদেহ জাজিরায় নিয়ে আসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।