খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ফুটবল, ক্রিকেটের পাশাপাশি কাবাডি, ভলিবল, হকি, দাবা, টেনিসসহ সব খেলায় প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। নির্দিষ্ট পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করা খেলোয়াড়েরা দেশের সম্পদে পরিণত হন। তদের সাফল্য একটি জাতির গর্ব হয়ে থাকে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী সিলেট বিভাগের প্রতিযোগীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জাতীয় কাবাডি ও ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া সিলেটের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তোমরা সিলেটের সম্পদ। তোমাদের এই কৃতিত্ব আমরা বহু বছর মনে রাখব। সিলেটবাসীর মনে থাকবে, এই ছেলেদের নিয়ে আমরা অহংকার করতে পারি।
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সুযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আগে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার বিষয়টি সার্বজনীনভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল না। ফুটবল ও ক্রিকেটের কিছু খেলোয়াড় সম্মান ও স্বীকৃতি পেলেও অন্য খেলাগুলোতে সেই সুযোগ সমানভাবে তৈরি হয়নি। অথচ অলিম্পিকে ডিসকাস থ্রো, পোল ভল্ট কিংবা হাইজাম্পে চ্যাম্পিয়ন হওয়া একজন অ্যাথলেটও বহু বছর একটি জাতির গর্ব হয়ে থাকতে পারেন। নারী কিংবা পুরুষ, যে খেলাতেই কেউ নির্দিষ্ট পর্যায়ের সাফল্য অর্জন করেন, তিনি দেশের সম্পদে পরিণত হন।
কাবাডি খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, হাডুডু খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্য টার্ফের ব্যবস্থা করা এবং যেখানে সম্ভব, তাদের জন্য আলাদা সুযোগ-সুবিধা গড়ে তুলতে কাজ করা হবে।
সিলেটে খেলার মাঠের সংকট দূরীকরণে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সিলেট সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রতিটিতে একটি করে খেলার মাঠ করার প্রতিশ্রুতি আমার নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের প্রতি তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে খেলার মাঠের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করা হবে।
সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সম্প্রতি দায়িত্ব পাওয়া বিভাগীয় সদস্যসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাপলু ও জেলা সদস্যসচিব রেজাউল করিম নাচনসহ দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ক্রীড়াঙ্গনে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় এখন। সবার প্রত্যাশা মাথায় রেখে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালেক, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী প্রমুখ।
