BD SYLHET NEWS
সিলেটসোমবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৩০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড: নিভল তাদের প্রাণ


অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

একদিন আগেও স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দময় সময় কাটানোর কথা ছিল তার। কিন্তু অফিসের জরুরি কাজে এক দিন আগেই কক্সবাজার থেকে চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন নূর আলম। পরদিন সকালে গণমাধ্যমে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর দেখে স্বজনদের খোঁজ নিতে শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে জানতে পারেন, আগুনে প্রাণ হারিয়েছেন তার স্ত্রী, একমাত্র সন্তান, শ্যালক ও তিন শ্যালিকা। মুহূর্তেই ছয় স্বজনকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন বরিশালের উজিরপুরের এই বাসিন্দা।

নূর আলম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের গাজিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত। চাকরির সুবাদে প্রায় আট বছর ধরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩) বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতার মধ্যেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর আশায় তারা কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্ত্রী ফারিয়া কবির ও পাঁচ বছর বয়সি একমাত্র ছেলে ফাইজান নূরকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় যান নূর আলম। পরদিন বৃহস্পতিবার শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন তারা।

কক্সবাজারে পৌঁছানোর পর অফিসের জরুরি কাজ থাকায় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) একাই চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন নূর আলম। কিন্তু শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের খবর দেখে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে জানতে পারেন, ভয়াবহ ওই আগুনে নিহত হয়েছেন তার পরিবারের ছয় সদস্য।

নিহতরা হলেন নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩), তাদের পাঁচ বছর বয়সি ছেলে ফাইজান নূর, শ্যালক নাসির উদ্দিন (২৫) এবং তিন শ্যালিকা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩)।

গত শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকত সংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন ও তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান, ইসমাইল হোসেন মাসুদ ও তার স্ত্রী মেহেরুন নেছা, মান্নান এবং সামিদা। ইসমাইল হোসেন ও তার স্ত্রী মেহেরুন নেছা নিহত ফারিয়া কবিরের মামা-মামি। তাদের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ঠেটালিয়া গ্রামে।

নূর আলমের বাবা মোহাম্মদ আলী রাঢ়ী জানান, বিয়ের পর স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ছেলে কখনোই উজিরপুরের গ্রামের বাড়িতে আসেননি। নূর আলমের শ্বশুরবাড়ি পটুয়াখালীর তালতলীতে হলেও তারা ঢাকার বনশ্রী এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।

মোহাম্মদ আলী রাঢ়ী বলেন, পুত্রবধূ, নাতি এবং ছেলের শ্যালক-শ্যালিকাসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে হারানোর খবর তাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে সবার মরদেহ ঢাকায় দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।