BD SYLHET NEWS
সিলেটশুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:৩৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‎জামালগঞ্জে ভারতীয় শাড়ি জব্দ নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ৮৫৮ পিস গায়েবের অভিযোগ


আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

‎সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : ‎সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ভারতীয় শাড়ির চালান জব্দ ও মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে নৌ-পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মামলার প্রধান আসামি জয়নাল মিয়া। তার দাবি, অভিযানের সময় একটি স্পিডবোট থেকে প্রায় ১ হাজার ২৫৬ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হলেও পরবর্তীতে মাত্র ৩৯৮ পিস শাড়ি জব্দ দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৮৫৮ পিস শাড়ির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

‎তবে নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযানে ৩৯৮ পিস ভারতীয় শাড়ি ও একটি স্পিডবোট জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জয়নাল মিয়া ও মোজাহিদ মিয়াকে আসামি করে জামালগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে।

‎জয়নাল মিয়ার অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে লালপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়িকে ‘ম্যানেজ’ করে ভারতীয় শাড়ির ব্যবসা করে আসছিলেন। তবে বুধবার দিবাগত রাতে হঠাৎ করে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই লালপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সজল কুমার কানু সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে জামালগঞ্জ উপজেলার গজারিয়া বাজার ঘাটে অভিযান চালিয়ে তার ব্যবহৃত স্পিডবোটসহ ১৩ বস্তা ভারতীয় শাড়ি আটক করেন।

‎জয়নালের দাবি, ওই ১৩ বস্তায় প্রায় ১ হাজার ২৫৬ পিস শাড়ি ছিল। কিন্তু পরে ফাঁড়ির ইনচার্জ সজল কুমার কানু স্পিডবোটটি ফাঁড়ির কাছাকাছি মান্নানঘাট এলাকায় আটক দেখিয়ে মাত্র ৩৯৮ পিস শাড়ি জব্দের কথা উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় তাকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে।

‎জয়নাল প্রশ্ন তুলে বলেন, যদি ১৩ বস্তায় ১ হাজার ২৫৬ পিস শাড়ি থাকে এবং পুলিশ ৩৯৮ পিস জব্দ দেখায়, তাহলে বাকি ৮৫৮ পিস শাড়ি গেল কোথায়-এ বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

‎তিনি আরও অভিযোগ করেন, জব্দের প্রকৃত স্থান ও পরিমাণ নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নৌ-পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

‎এদিকে লালপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সজল কুমার কানু মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‎বুধবার দিবাগত রাতে সুরমা নদীতে টহল দেওয়ার সময় সন্দেহজনক একটি স্পিডবোট দেখতে পেয়ে সেটিকে ধাওয়া করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে স্পিডবোটটি তীরে রেখে দুই ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে স্পিডবোটে তল্লাশি চালিয়ে ৩৯৮ পিস ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়।

‎আমরা মালামাল আটকের সময় বিভিন্ন লোকজন ছিলো। তাই এটা লুকোচুরি করার কোনো সুযোগ নাই। প্রয়োজনে তদন্ত করা হোক।
‎‎তবে জয়নালের করা ১ হাজার ২৫৬ পিস শাড়ি আটকের দাবি এবং পুলিশের নথিতে উল্লেখ করা ৩৯৮ পিস জব্দের তথ্যের মধ্যে ৮৫৮ পিসের যে পার্থক্য রয়েছে, সেটিই এখন প্রশ্নের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও প্রকৃতপক্ষে কত পিস শাড়ি জব্দ হয়েছিল-তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জয়নাল মিয়া।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।