BD SYLHET NEWS
সিলেটরবিবার, ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০ ভাগ বরাদ্দের দাবিতে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ


মে ১৭, ২০২৬ ৭:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জাতীয় বাজেটে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০ভাগ কৃষি খাতে বরাদ্দ ও হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ ১০দফা দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রণ্ট সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। অদ্য সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা। স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রণ্ট সিলেট জেলা আহ্বায়ক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী সুমন, বাসদ জেলা আহ্বায়ক আবু জাফর, কৃষক ফ্রণ্ট নেতৃবৃন্দের মধ্যে সালাউদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, বাবুল মিয়া, প্রমূখ।

স্মারকলিপি তে উল্লেখ করা হয়,বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ| দেশের অর্থনীতিতে কৃষি গুরুত্বপূর্ণ খাত, মোট শ্রমশক্তির ৪৪ ভাগ কৃষিতে যুক্ত| রাষ্ট্রের চরম অবহেলা সত্ত্বেও একক খাত হিসেবে কৃষি জিডিপিতে ১১ শতাংশ অবদান রাখছে| দেশের রপ্তানি খাতে কৃষি পণ্যের ভূমিকা ৭%| গবেষণা মতে কৃষিতে ১% প্রবৃদ্ধি ঘটলে ৩% বেকারত্ব কমে| কৃষি-মৎস্য, প্রাণিজ ও খাদ্য মন্ত্রণালয় মিলে বাজেটে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের মাত্র ৫%| শুধু কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ মাত্র ৩.২১%| বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে কৃষি ঋণ মোট ঋণ বিতরণের মাত্র ৩.৩৬%| বীজ-সার নিয়ে দুর্নীতি, নিম্ন মানের বীজ, ভেজাল সার, কীটনাশক সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রসাসনের কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায়নি| বীজ-সার, কীটনাশক-সেচসহ কৃষি উপকরণের দাম ক্রমাগত বাড়ছে| সরকারি ক্রয়কেন্দ্র, প্রয়োজনীয় সরকারি হিমাগার-সাইলো ও সংরক্ষণাগার না থাকায় কৃষক মৌসুমে ফসল ওঠার পরই কমদামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়| প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও মধ্যসত্ত্বভোগী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, কালোবাজারি, ফঁড়িয়াদের দৌরাত্ম্যে লাভজনক দাম না পেয়ে কৃষক সর্বশান্ত হচ্ছে| আবার ভোক্তাদেরও চড়া মূল্যে কিনে খেতে হয়| চলতি বোরো মৌসুমে ডিজেল ও সার সংকটে কৃষক দিশেহারা, অপর দিকে সরকারি রক্ষণাগার না থাকায় ধান-আলু, পেঁয়াজ-রসুন ইত্যাদি এবং পচনশীল শস্য ও সবজি উৎপাদন করে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে| চড়াসুদে এনজিও-মহাজনি ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে না পেরে কৃষক আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে| ভূমিহীনের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে| বছরে অন্তত ১১ লাখ কৃষক ভূমিহীনে পরিণত হয়| বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, খেতমজুরদের ৩ মাসের বেশি কাজ না থাকা, শিক্ষা-চিকিৎসা ব্যয়, দরিদ্র-নিম্নবিত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের নাগালের বাইরে| ইত্যাদি কারণে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য তীব্র আকার ধারণ করছে| সামাজিক সুরক্ষাখাতে অপ্রতুল সরকারি বরাদ্দ, অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণে প্রকৃত হকদাররা পায় না| স্মারকলিপি তে নিম্নোক্ত ১০দফা দাবি পেশ করা হয়ঃ

১. আসন্ন জাতীয় বাজেটে (২০২৬-২৭) উন্নয়ন বরাদ্দের শতকরা ৪০ ভাগ কৃষি খাতে বরাদ্দ করতে হবে
২. বিএডিসিকে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করে সার-বীজ, কীটনাশক, সেচসহ সকল কৃষি উপকরণ ভর্তুকি মূল্যে খোদ কৃষকদের সরবরাহ করতে হবে| গবাদিপশু-মাছ, মুরগির ফিডের দাম কমাতে হবে
৩. দশ হাজার টাকা কৃষি ঋণ সুদাসলে মওকুফের সরকারি ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন এবং কৃষকের নামে সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের সুদমুক্ত ঋণ দিতে হবে| এনজিও এবং মহাজনি ঋণের হয়রানি বন্ধ করতে হবে|
৪ প্রতি ইউনিয়নে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র খুলে খোদ কৃষকের কাছ থেকে উৎপাদন খরচের সাথে ৪০ ভাগ মুনাফা যুক্ত করে কৃষিপণ্য ক্রয় করতে হবে
৫. সরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত হিমাগার-সাইলো নির্মাণ, সরকারি ব্যবস্থাপনায় লাভজনক দামে উদ্বৃত্ত শস্য বিদেশে রপ্তানিসহ প্রক্রিয়াজাতকরণ করতে হবে
৬. খেতমজুরদের সারা বছরের কাজ, গ্রামশহরের শ্রমজীবীদের জন্য আর্মি রেটে রেশন এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুর্নীতি, দলীয়করণমুক্তভাবে কৃষিকার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, নারী শ্রমিকের মজুরি বৈষম্য নিরসন করতে হবে
৭. সমতলের আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশন গঠন, মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভূমিহীনদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রদান ও খাস জমি উদ্ধার করে প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে সমবায়ের ভিত্তিতে বণ্টন করতে হবে
৮. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত অসম বাণিজ্য চুক্তিসহ বিদেশিদের সাথে করা সকল জাতীয় স্বার্থ বিরোধী চুক্তি বাতিল, আয়ের সাথে সঙ্গতিহীন অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও উদ্ধার করে শিক্ষা-কৃষি, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ করতে হবে
৯. তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, নতজানু পররাষ্ট্র নীতি পরিহার করতে হবে|
১০. হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে গবেষণাসহ স্থানীয় কৃষক ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে| বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি বন্ধ, স্থানীয় কৃষকদের যুক্ত করা এবং নদী-খাল খনন করতে হবে|

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।