BD SYLHET NEWS
সিলেটবুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:৫৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রবিনিওকে মারধরের ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন নেইমার


মে ৬, ২০২৬ ৬:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অনুশীলনে হাস্যোজ্জ্বল নেইমার ও রবিনিও জুনিয়র। ছবিটি অবশ্য কয়েক মাস আগেরইনস্টাগ্রাম/রবিনিও জুনিয়র
অনুশীলনে নেইমারকে ড্রিবল করেছিলেন রবিনিও জুনিয়র। সান্তোস তারকা মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি। প্রথমে তর্কাতর্কি, একপর্যায়ে রবিনিও জুনিয়রের গায়ে হাতই তোলেন নেইমার। এ নিয়ে জুনিয়রের ক্লাব ছাড়ার হুমকি ও নেইমারের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়া মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ ঘোলাটেই মনে হচ্ছিল। তবে ব্যাপারটা মিটমাট হয়েছে দ্রুতই।

মারধরের ঘটনাটি গত রোববারের। নেইমারের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ তোলেন সান্তোসের ১৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড রবিনিও জুনিয়র—অপমানসূচক গালি দেওয়া, ল্যাং এবং চড় মারা। সান্তোস এ ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে চুক্তি বাতিলের হুমকিও দিয়েছিলেন এই ক্লাবেরই কিংবদন্তি রবিনিওর ছেলে রবিনিও জুনিয়র।

সান্তোস তদন্তের ঘোষণা দিয়েছিল। তখন মনে হয়েছিল নেইমার হয়তো শাস্তি পেতে যাচ্ছেন, যেটা ব্রাজিলের হয়ে তাঁর বিশ্বকাপ খেলায় আশায় জল ঢেলে দিতে পারে। কিন্তু গতকাল রাতে কোপা সুদামেরিকানায় সান্তোসের ম্যাচের পর বিরোধের এই বরফ শেষ পর্যন্ত গলেছে। জুনিয়রের দাবি মেনে ক্ষমা চেয়েছেন নেইমার।

মহাদেশীয় টুর্নামেন্টের ম্যাচটিতে প্যারাগুয়ের ক্লাব দেপোর্তিভো রেকোলেতার সঙ্গে ১–১ গোলে ড্র করে সান্তোস। দলের হয়ে গোলটি করেন নেইমার। আর সেই গোলের পরই নেইমার–সতীর্থ রবিনিও জুনিয়রকে জড়িয়ে ধরে উল্লাসে মাতেন, যা দেখে স্বস্তি ফেরে নেইমার ও সান্তোস সমর্থকদের মধ্যে।

দুই পক্ষের মিটমাট যে হয়ে গেছে, তা ম্যাচের আগেই জানিয়েছিল ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ইউওএল। মারধরের পর রবিনিও জুনিয়রকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেন নেইমার। রবিনিও জুনিয়রের মা ভিভিয়ানের সঙ্গে দেখাও করে নেইমারের প্রতিনিধিদল। তবে জুনিয়রের ব্যবস্থাপক দল দাবি করে, নেইমারকে সবার সামনে ক্ষমা চাইতে হবে।

গতকাল রাতে প্যারাগুয়েতে ড্রয়ের পর মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের মাধ্যমে সেটাই করেন নেইমার, ‘ফুটবলে এমন হয়। ব্যাপারটা আমাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা ছিল। অনুশীলনে ভুল–বোঝাবুঝি থেকে আমি কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম। তবে ঘটনার পরই আমি ক্ষমা চেয়েছি। ড্রেসিংরুমে আমাদের কথা হয়েছে এবং আমরা সব মিটিয়ে নিয়েছি।’

সান্তোসের অনুশীলন ক্যাম্পেই রবিনিও জুনিয়রের সঙ্গে সোমবার রাতে নৈশভোজ সারেন নেইমার। অনুতপ্ত এই তারকা ঘটনার দায় স্বীকার করে বলেন, ‘একটু বেশিই প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেলেছি, বিষয়টি অন্যভাবে সামলানো যেত। মেজাজ হারিয়ে ফেলেছিলাম আমি। ভুলটা ওর ছিল, আমার ভুল ছিল ওর চেয়েও বেশি। তবে আমি ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি।’

ড্রেসিংরুমের ঘটনা বাইরে আসায় নেইমার যে অসন্তুষ্ট, সেটাও অবশ্য জানিয়েছেন, ‘ভেবেছিলাম ড্রেসিংরুমেই সব মিটমাট হয়ে গেছে। পুরো দলের সামনেও ক্ষমা চেয়েছি। এখন দেখছি বোমা ফাটানো হয়েছে। দলের ভেতরকার মানুষদের নিয়ে বাইরের মানুষ সব সময় তিলকে তাল করার সুযোগ খোঁজে।’

রবিনিও জুনিয়রের বাবা রবিনিওর সঙ্গে একসময় ব্রাজিল জাতীয় দল ও সান্তোসে খেলেছেন নেইমার। ধর্ষণ–কাণ্ডে জড়িয়ে রবিনিও এখন ব্রাজিলেই জেল খাটছেন। বাবার একসময়ের এ সতীর্থকে সান্তোসে ‘আদর্শ’ মেনেছেন জুনিয়র। সেই আদর্শ যদি অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চান, তাহলে কি আর রাগ থাকে?

এ ঘটনায় ক্লাবের বিরুদ্ধে পাঠানো আইনি নোটিশ তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মিক্সড জোনে রবিনিও জুনিয়র বলেন, ‘খুব মন খারাপ হয়েছিল। কারণ, তিনি (নেইমার) আমার আদর্শ, ছোটবেলা থেকেই আমি তাঁর ভক্ত। এটা স্রেফ একটা ভুল ছিল। তিনিও নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। মানুষ অনেক আজেবাজে কথা বলছে, যা সত্যি নয়। বিষয়টি এই পর্যায়ে গড়িয়েছে দেখে খারাপ লাগছে। আমাদের মধ্যে সব মিটে গেছে।’

সাও পাওলোর লিমেইরা রিইন্টিগ্রেশন সেন্টারে ৯ বছরের সাজা ভোগ করা রবিনিওর কান পর্যন্তও এ ঘটনা পৌঁছেছে। কারাগারের এক কর্মীর কাছ থেকে এ ঘটনা জানার পর মুষড়ে পড়েন রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই ফরোয়ার্ড। নেইমার তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু, সেই বন্ধুর হাতে ছেলের মারধরের শিকার হওয়ার কথা শুনে রবিনিও নাকি কেঁদেছেনও। তবে মিটমাটের খবর পাওয়ার পর রবিনিওর স্বস্তিই পাওয়ার কথা।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।