BD SYLHET NEWS
সিলেটরবিবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:১৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তালাবদ্ধ দোকান খুলে দেয়ার দাবি কালেক্টরেট মার্কেটের ব্যাবসায়ীদের


এপ্রিল ২৬, ২০২৬ ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজেদের তালাবদ্ধ করা দোকান সমূহ খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের পজেশন গ্রহীতা/মালিক ও ব্যবসায়ীরা। তারা বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সহ সিলেট অঞ্চলের মন্ত্রীদের হস্তক্ষেপেও কামনা করেন।

রোববার দুপুরে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়েজিত সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে মো. ইনামুল করিম চৌধুরী এই দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইনাম চৌধুরী বলেন, বিগত ০৫/০১/১৯৯৯ ইং তারিখ সহ ভিন্ন ভিন্ন তারিখে স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে আমরা সার্বিক বিষয় অবগত হয়ে দরপত্রে অংশ গ্রহণ পূর্বক সর্বোচ্চ দরদাতা হয়ে সেলামী দিতে আগ্রহী হয়ে ১নং থেকে ৭নং দোকানের জন্য সর্ব মোট প্রায় কোটি টাকার মতো পরিশোধ ক্রমে ১০/০১/১৯৯৯ইং তারিখ সহ ভিন্ন ভিন্ন তারিখে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও সভাপতি ট্রাষ্টি বোর্ড, সিলেট কালেক্টরেট মসজিদ ট্রাস্ট এবং আমরা দোকান গ্রহীতাগণ ভিন্ন ভিন্ন ৭ (সাত) টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিনামা মূলে সিলেট কালেক্টরেট মসজিদ ট্রাষ্ট এর অধীনে স্থায়ী ভাড়াটিয়া নিযুক্ত হই । বর্ণিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তিপত্রের শর্তানুযায়ী আমরা দোকান গ্রহীতাগণ নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করিয়া আসিতেছি এবং কোন কোন দোকান গ্রহীতা ইতোমধ্যে ডিসেম্বর ২০২৬ইং পর্যন্ত অগ্রীম ভাড়া প্রদান ক্রমে রসিদ সংগ্রহ করিয়া রাখিয়াছি।

তিনি বলেন, আকস্মিক ভাবে সিলেট কালেক্টরেট মসজিদ ট্রাস্ট পক্ষে কোষাধ্যক্ষ ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর, সিলেট জনাব কিশোর কুমার পাল এর স্বাক্ষরিত স্বারক নম্বর সি.কা.জাম: 2022/13 তারিখ ১০/০৩/২০১৬ইং মূলে জানান যে, “বোর্ড অব ট্রাস্টিজ কালেক্টরেট জামে মসজিদ সিলেট এর ২৬/০২/২০২৬ ইংরেজি তারিখে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বর্তমান মসজিদ মার্কেটের দোকান মালিকদের সাথে চুক্তি বাতিলের বিষয়টি সর্ব সম্মত ভাবে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এমতাবস্থায় আগামী ০৩ (তিন) দিনের মধ্যে স্ব স্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সকল মালামাল স্থানান্তর পূর্বক বিদ্যুৎ বিল সহ অন্যান্য যাবতীয় বিল পরিশোধের প্রমাণসহ জেলা প্রশাসক সিলেট ও সভাপতি বোর্ড ট্রাস্টিজ এর নিকট দোকান কোঠার দখল সমজাইয়া দেওয়া এবং বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।” কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে দোকান মালিকগণের সাথে সম্পাদিত চুক্তিপত্র অনুযায়ী সিলেট কালেক্টরেট মসজিদ ট্রাস্ট বা জেলা প্রশাসক, সিলেট একতরফা ভাবে চুক্তি বাতিলের অধিকার রাখেন না। দোকান পজেশন গ্রহীতা/মালিকগণের সাথে সিলেট কলেক্টরেট মসজিদ ট্রাস্ট এর সম্পাদিত চুক্তিপত্র অনুযায়ী পক্ষগণের মধ্যে ভাড়াটিয়া ও মালিক সম্পর্ক উপরোল্লিখিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হওয়া করনীয়। এছাড়া ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের নির্দিষ্ট আইনী বিধি বিধান বিদ্যমান। এমতাবস্থায় সিলেট কালেক্টরেট মসজিদ ট্রাস্ট বা ট্রাস্টের পক্ষে কোষাধ্যক্ষ ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর, সিলেট কর্তৃক ১০/০৩/২০২৬ইং তারিখে স্বাক্ষরিত স্বারক সম্পূর্ন বেআইনী ও এখতিয়ার বর্হিভূত। আমরা দোকানের পজেশন গ্রহীতা/মালিক ও ব্যবসায়ীগণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির কোন শর্ত ভঙ্গ করি নাই ।

তিবি আরো বলেন, পূর্ব বর্ণিত ১০/০৩/২০২৬ইং তারিখের স্বারক সংক্রান্ত পত্র প্রাপ্ত হয়ে আমরা দোকানের পজেশন গ্রহীতা/মালিক ও ব্যবসায়ীগণ মহামান্য সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ সহ ভিন্ন ভিন্ন আদালতে আইনী আশ্রয় গ্রহণ করি। সেমতে মোহাম্মদ জামিল আহমদ @ মোহাম্মদ জামিল আহমদ তফাদার গং ৫ (পাঁচ) জন দোকানের পজেশন গ্রহীতা / মালিক ও ব্যবসায়ী কর্তৃক মহামান্য সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং- ৩৫২৯/২০২৬ইং দায়ের করলে মহামান্য আদালত বিগত ১২-০৩-২০২৬ ইং তারিখে রুলনিশি প্রদান সহ দুই মাসের জন্য “Status quo in request of possession and position” প্রদান করেন এবং অপর ২ (দুই) জন দোকানের পজেশন গ্রহীতা /মালিকের দায়েরকৃত রিট পিটিশন নং-৩৫৫০/২০১৬ ইং ও ৩৫৫১/2026 ইং এর প্রেক্ষিতে আদালত বর্ণিত উচ্ছেদ নোটিশের কার্যকারিতা ৩ (তিন) মাসের জন্য স্থগিত করেন। বর্ণিত রিট ও অন্যান্য আইনানুগ পদক্ষেপ সংক্রান্ত বিষয়াদি সময় সময় মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়কে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবগত করা হয়। কিন্তু আকস্মিক ভাবে বিগত ২৫/০৩/২০২৬ইং বিকেল অনুমান ৩টায় সিলেট মহানগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরজমিনে সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের দোকান সমূহে উপস্থিত হয়ে দোকান বন্ধ করতে বললে আমরা মহামান্য সুপ্রীমকোর্ট এর হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের জাবেদা নকলের আসল কপি প্রদর্শন করি। তখন তিনি ঐ দিনই তাহা জেলা প্রশাসক, সিলেট এর সাথে সাক্ষাৎ ক্রমে আইনানুগ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে পরামর্শ প্রদান করেন। তদবস্থায় আমরা দোকানের পজেশন গ্রহীতা/মালিকগণ সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান করেও জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি পাইনি।

উল্লেখ্য যে, আমরা দোকান মালিকগণ অত্র তারিখের বহু পূর্বেই আমাদের দায়েরকৃত রিট পিটিশন ও আদেশ এবং অন্যান্য আইনানুগ পদক্ষেপ সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসক, সিলেট মহোদয়কে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবগত করেছিলাম। এর পর গত ২৬/০৩/২০২৬ইং তারিখ রাত অনুমান ৯.৩০টায় সিলেট মহানগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আমাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে বাধাগ্রস্থ করতে সম্পূর্ণ বেআইনী ভাবে প্রত্যেক দোকানের অভ্যন্তরে পচনশীল দ্রব্যসহ কোটি কোটি টাকার মালামাল থাকা সত্ত্বেও দোকানের সাটারে এক বা একাধিক তালা লাগিয়ে আমাদের সম্পূর্ন দোকান খুলে ব্যবসা পরিচালনা করতে বে-আইনী ভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। যাহা সম্পূর্ণ বেআইনী এবং আদালত অবমাননাজনক ৭। মার্কেটের কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের আইনানুগ অধিকার সংক্রান্তে আলোচনা সাপেক্ষে কোনরূপ প্রতিকার না পাওয়ায় আমরা সিলেটের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীক নেতৃবৃন্দকে সার্বিক পরিস্থিতি অবগত করে তাদের সহযোগিতা কামনা করি। নেতৃবৃন্দ আমাদের বর্ণিত পরিস্থিতি শুনে একত্র হন এবং তারাও স্বশরীরে জেলা প্রশাসন মহোদয়ের সাথে সাক্ষাক্রমে বিষয়টির সুন্দর একটি সমাধান কামনা করেন। কিন্তু জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছ থেকে অদ্যবিধি গ্রহণযোগ্য কোন সমাধান আমরা পাইনি ।

ব্যাবসায়ীরা বলন, আমরা লক্ষ লক্ষ টাকা এককালীন প্রদান পূর্বক দীর্ঘ ২৬/২৭ বছর পূর্বে যে সকল দোকান গৃহ স্থায়ী ভাবে চিরদিনের জন্য ভাড়া গ্রহণ ক্রমে নিয়মিত ভাড়া প্রদান করছি কিন্তু তাহা ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একতরফা ভাবে বাতিল মর্মে ঘোষণা ক্রমে ৩ (তিন) দিনের মধ্যে উচ্ছেদের নোটিশ দিয়ে কোটি কোটি টাকার চলমান ব্যবসা পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি এবং সুনাম ক্ষুন্ন করার যে বেআইনী তৎপরতা সিলেট কালেক্টরেট মসজিদ ট্রাস্ট পক্ষে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য কর্মকর্তাগণ করতে যাচ্ছেন এবং মহামান্য সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা অমান্যক্রমে আমাদের চলমান ব্যবসা পরিচালনা করতে বাধা নিষেধ প্রদান করায় আমাদের সাংবিধানিক ও আইনানুগ অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং আমরা অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। সিলেটের জেলা প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষগণ যদি স্থায়ী ভাড়াটিয়া চুক্তিপত্র একতরফা ভাবে বাতিল ঘোষনাক্রমে ৩ (তিন) দিনের নোটিশে বেআইনিভাবে আমাদেরকে নিজ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হইতে জোর পূর্বক উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করেন তাহা হইলে বাংলাদেশের কোটি কোটি ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভাড়াটিয়া চুক্তিপত্র হুমকির মুখোমুখি হবে এবং যে কেহ উপরোক্ত মর্মে বেআইনী উদ্যোগের মাধ্যমে নিজ নিজ শক্তি প্রদর্শণ পূর্বক নিরীহ ব্যবসায়ীদের
ভাড়াকৃত দোকানের পরিসর হইতে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করতে বেআইনী অপ তৎপরতা চালাবেন, ফলে ব্যবসায়ীদের শান্তিপূর্নভাবে ব্যবসা পরিচালনা হুমকির সম্মুখীন হবে। সিলেট কালেক্টরেট মসজিদ ট্রাস্টের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক, সিলেটের নির্দেশে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ অমান্য করে কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের আমাদের পজেশনকৃত দোকান সমূহের অভ্যন্তরে কোটি কোটি টাকার মালামাল থাকা স্বত্ত্বেও বেআইনি ভাবে তালাবদ্ধ করা হয়। এতে আমরা পরিবার-পরিজন সহ চরম দুর্দশায় দিন যাপন করছি। আমাদের চলমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ করে রাখায় দোকানের অভ্যন্তরে থাকা লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল প্রতিদিন মেয়াদ উত্তীর্ণ ও বিনষ্ট হচ্ছে। এতে আমাদের বড় অংকের আর্থিক ক্ষতি হওয়া সহ বিগত ২৭ বছরের ব্যবসায়ী সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, স্থানীয় জন প্রতিনিধি সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্থক্ষেপে আমাদের তালাবদ্ধ দোকান সমূহ অবিলম্বে খুলে দেয়া এবং ভবিষ্যৎে উক্ত মার্কেটের দোকান সমূহে ব্যবসা পরিচালানায় কোনরূপ বাধা সৃষ্টি না করার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামিল আহমদ তাফাদার, জামিল চৌধুরী পক্ষে ইনামুল করিম চৌধুরী, মোহাম্মদ সানাজ, মো. আলী হোসেন পক্ষে আল আমিন আহমদ, আলী হায়দার পক্ষে মো. আব্দুর রহিম বাদশা, হাফিজ ওয়াসিল আলীর পক্ষে মোহাম্মদ আনোয়ারুল হকসহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।