BD SYLHET NEWS
সিলেটরবিবার, ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:৪০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গানের সুরে সুরে সন্দীপনের পঁচিশ হলো


এপ্রিল ৪, ২০২৬ ২:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সজল ঘোষ  : গানের মানুষ, প্রাণের মানুষ সন্দীপন। ছোট বেলা থেকেই গান গেয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখে চলেছেন। তার কাছে গান গাওয়াই আসল কাজ। গানের সুরে সুরে সারাটি জীবন কাটিয়ে দিতে প্রস্তুত সন্দীপন। ইতিমধ্যে গানে গানে সন্দীপনের পঁচিশ বছর পূর্তি হয়েছে। আগামী দিনেও গান গেয়ে গেয়ে শেষ নি:শ^াস ত্যাগ করতে চান জননন্দিত ও জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী সন্দীপন। গানের মানুষ সন্দীপন জানান, আমৃত্যু গান গাইতে তিনি বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, সঙ্গীত হলো- সাধনার বিষয়। সাধনা ছাড়া সঙ্গীত পরিপূর্ণতা পায় না। সঙ্গীত সাধনায় মগ্ন থাকলে প্রকৃত সঙ্গীতশিল্পী হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। সুতরাং ভালো উস্তাদ ধরে গান গাওয়ার প্র্যাকটিস চালিয়ে যেতে হবে। অনন্য, অসাধারন গান গাওয়া তখন হবে সহজ।

“মধু হই হই বিষ খাওয়াইলা’, ‘বানুরে ও বানু,’ ‘ওরে হালা ভোমরা,’ ‘সোনা বন্ধু তুই আমারে করলিরে দিওয়ানা,’ ‘লুসাই পাহাড়’-’ এমন কালজয়ী গানগুলো গেয়ে গানের ভুবনে যোগ করেছেন ভিন্ন অথচ সমাদৃত এক ধারা। চট্টগ্রামের গানকে দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও পৌঁছে দিতে অন্যতম ভ‚মিকা রেখেছেন তিনি। তিনি আর কেউ নন, শিল্পী সন্দীপন। মঞ্চনাটক দিয়ে শিল্পীজীবন শুরু করলেও পরে গায়ক ও সুরকার বাপ্পা মজুমদারের প্রেরণায় অ্যালবাম প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন। ফোক ফিউশন, আধুনিক, ক্ল্যাসিক্যাল, রিমেক, পপ ফিউশনসহ নানা ধারায় গান করলেও ফোক-ফিউশনই তাকে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা দিয়েছে। দীর্ঘ আড়াই দশকের চলার পথচলা সন্দীপনের। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও মঞ্চে মঞ্চে গান গেয়ে চলেছেন সবার প্রিয় সন্দীপন।
গানের সুর প্লাবনের মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিচ্ছেন শ্রোতাদের মন-প্রাণে। সন্দীপনের কণ্ঠশৈলী অপূর্ব মাধুর্যে ঐশ^র্য্যময়। সুরেলা মায়াবী কণ্ঠে গান গাওয়া তার নেশা ও পেশা।

জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী সন্দীপনের গ্রামের বাড়ি রাউজান, নানার বাড়ি বোয়ালখালী। তবে সাংস্কৃতিক পরিমÐলে বেড়ে ওঠা পাথরঘাটা ও হাজারি গলিতে। বাবা ব্যাংকার হলেও সংস্কৃতিমনা ছিলেন, বড়ভাই তবলা বাজাতেন, বোনও গান করতেন। প্রথম গুরু মিহির কান্তি লালার কাছে-সঙ্গীতের সা.রে,গা,মা,পা,ধা,নি,সা শেখেন। তিনি স্কুলজীবনে পড়াশোনার চেয়ে গানে বেশি আগ্রহী ছিলেন। তারপরে কলকাতার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ফাইন আর্টসে অভিনয় পড়েছেন, দিজেন মুখোপাধ্যায়ের কাছে রবীন্দ্রসংগীতে হাতেখড়ি নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি এখনো গান শিখছি। গান শিখবোই আরও। গান শেখার বিষয়। আরাধনার মূল বিষয়। যারা গানের জগতে কাজ করতে চান, তাদের উদ্দেশ্যে সন্দীপন বলেন, গান যখন গুরুমুখীবিদ্যা তখন ভালো গুরুর চরণাশ্রয়ে থাকাই হবে ভালো কাজ ও সঠিক সিদ্ধান্ত।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে সংগীতে নানন প্রতিক‚লতা সত্তে¡ও গান গাওয়া থেকে বিরত থাকেননি সন্দীপন। গানের শুরুতেই প্রযোজনা কোম্পানির অফিসে দিনের পর দিন বসে থেকেও সুযোগ পেতেন না তিনি। অনেক সময় গান ফিরিয়ে দিত কোম্পানী। নিজের টাকা খরচ করে সিডি বানিয়েও জমা দিলেও সাড়া পেতে দেরি হত। অনেক সময় নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দিত। এসবে হতাশ হলেও হাল ছাড়েননি সন্দীপন। শুরুর দিকে প্রয়াত সঙ্গীতঙ্গ বাসুদেব ঘোষ, পরে দলছুট ব্যান্ডের প্রধান ভোকাল ও লিড গিটারিস্ট বাপ্পা মজুমদারের সহায়তায় আলোকিত সমৃদ্ধ পথে এগিয়ে যাওয়া। এখনো গানের ¯িœগ্ধ মমতায় চলছেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী সন্দীপন। এই পথচলা চলতেই থাকবে।

বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী সন্দীপনের একক অ্যালবাম দশটির বেশি, মিক্সড অ্যালবাম শতাধিক রয়েছে সঙ্গীতময় ভুবনে। ২০০৪ সালে একতার মিউজিক থেকে ‘সোনাবন্ধু’ অ্যালবাম বের হয়, সংগীতায়োজন করেছিলেন বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার। ‘সোনা বন্ধু তুই আমারে’ গানটি নতুন আঙ্গিকে গেয়ে সাড়া পেয়েছিলেন। সেখান থেকেই মূলত সারাদেশে পরিচিতি পান নন্দিত সঙ্গীতশিল্পী সন্দীপন।

দেশবরেণ্য খ্যাতনামা সঙ্গীতশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদি, মাহমুদুন্নবী, শেখ ইশতিয়াক- তাদের অনুপ্রেরণায় সন্দীপন চলছেন সঙ্গীতের অমিয় সুধায়। বাংলাদেশের বাইরে কিশোর কুমার, শ্যামল মিত্র ও ব্যান্ড সংগীতের পথ প্রদর্শক গুরুখ্যাত আজম খানকে গুরু মানেন সৃজনশীল সঙ্গীতশিল্পী সন্দীপন।

সন্দীপন বলেন- যদি গানের জগতে না থাকতাম তাহলে চোখ বন্ধ করে বলব ফুটবল খেলোয়াড় হতাম। গোলকিপার হিসেবে খেলেছি। স্কুল-কলেজ টুর্নামেন্টে দলগুলো আমাকে পয়সা খরচ করে নিত। তবে গান আর খেলাধুলা একসাথে সম্ভব হয়নি, তাই গানকেই বেছে নিয়েছি। গানই এখন আমার একমাত্র সম্বল। গান নিয়েই দিন-রাত আমাল কোলাহল।

চট্টগ্রামের গান নিয়ে সন্দীপন বলেন, প্রয়াত সকল সঙ্গীতশিল্পী এবং বর্তমান সঙ্গীতশিল্পীদের গানের বিষয়টি অনন্য। সকল কিংবদন্তিদের স্থান পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে কিছু চেষ্টা যে চলছে না, তা না। আমি বাঁশখালীর অধীর শীলের লেখা-সুর করা একটি মৌলিক গান নিয়ে কাজ করছি। এখন অ্যালবামের চেয়ে ইউটিউব, স্পটিফাই ইত্যাদি প্ল্যাটফর্মে কাজ হচ্ছে। সংখ্যা কম হলেও চেষ্টা অব্যাহত আছে। আমার প্রচেষ্ঠা সকল সময় অব্যাহত ছিলো, আছে এবং থাকবে। কারণ গানের কথা, সুর ও সঙ্গীত মানুষকে সুস্থ, সুন্দর ও আনন্দে রাখতে সহায়তা করে। মানুষকে দীর্ঘায়ু জীবন প্রদান করে থাকে।

সেই আশি-নব্বই দশকের গান আর এখনকার পার্থক্য সম্পর্কে বহু গুণের সঙ্গীতশিল্পী সন্দীপন বলেন, ওই সময় শিল্পী-গীতিকার- সুরকার মিলে একসাথে বসে গান তৈরি করতেন। ফলে একের পর এক কালজয়ী গান পেয়েছেন শ্রোতারা। এখন সেই ইন্ডাস্ট্রিও নেই, বাজারও নেই । এক ইন্টারনেট আমূল পালটে দিয়েছে গানের ভুবনকে। এখন ভাইরাল মিউজিক নিয়ে সবাই ব্যস্ত।

সংগীতকে পেশা হিসেবে নিয়ে ভুল লাগেনি প্রশ্নের উত্তরে সন্দীপন জানান, কখনোই না কখনো করবোই না। সঙ্গীত আমায় অনেক দিয়েছে। কিন্তু সঙ্গীতকে আমি কিছুই দিতে পারিনি। চাওয়া-পাওয়া কম, তবু সন্তুষ্ট। অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকতে পারি বলে আমার কোন হতাশা নেই। সংগীতকে ধারণ করতে পেরে আমি গর্বিত এবং মহাআননন্দিত ও খুব খুশি। বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে সন্দীপন এই প্রতিবেদককে জানান, কয়েকটি ফোক ও রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন কাজও চলছে। সন্দীপনের মায়াভরা কোমল কণ্ঠে লোকগানও আসছে শ্রোতাদের জন্য। তিনিবলেন, শ্রোতারাই আমার প্রাণ ও মূল শক্তি। শ্রোতারাই এই সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকার ধারক-বাহক। আমি গানে আছি ও থাকবোই। বাংলা গানের জয় জয়কার ছিলো, আছে এবং আগামী দিনগুলোতেও থাকবে।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।