BD SYLHET NEWS
সিলেটবৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৯:৪৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৫ পুলিশকে কুপিয়ে আসামি ছি’ন’তা’ই


জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বিডি সিলেট::- ময়মনসিংহ নগরীতে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ ও নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসার সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়া’সহ আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে নগরীর দিগারকান্দা ফিশারি মোড় এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে দিগারকান্দা এলাকার রাসেল নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে আরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। গুরুতর আহত রাসেলকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার পর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকেলে কোতোয়ালী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল দিগারকান্দা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তার শেষে তাকে থানায় নিয়ে আসার সময় আচমকাই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

পুলিশ জানায়, আসামি আরিফুল ইসলামের পিতা সাগর আলীর নেতৃত্বে কয়েকশ লোক লাঠিসোটা, ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং জোরপূর্বক হাতকড়াসহ আসামি আরিফুল ইসলামকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
আহত এসআই ফরিদ আহমেদ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে জানান, হামলায় এক এএসআই ও তিন কনস্টেবলসহ মোট পাঁচজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিব বলেন, “কর্তব্যরত পুলিশের ওপর এভাবে হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিস্বরূপ। আমরা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে আসামির পিতা সাগর আলীকে আটক করেছি।”

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছিনিয়ে নেওয়া আসামিসহ হামলায় জড়িত ক্যাডার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।