বিডি সিলেট ডেস্ক:: বাংলাদেশে সাংবাদিকতা যেন এক কঠিনতম পেশার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন টিভি উপস্থাপক ও সাংবাদিক জিল্লুর রহমান।
তিনি বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষ ভেবেছিল অন্ধকারের অবসান হলো, এবার সত্য বলার স্বাধীনতা ফিরবে। কিন্তু বাস্তবতা আরও হতাশাজনক।”
বুধবার (৩০ জুলাই) রাতে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, গত এক বছরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ২৫০টিরও বেশি মামলা হয়েছে। শুধু সামাজিক মাধ্যমে মতামত প্রকাশ করেও অনেকে মামলার শিকার হয়েছেন। এসব মামলার বেশিরভাগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সুপরিকল্পিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জিল্লুর রহমান বলেন, “সাংবাদিকদের মধ্যে এখন আত্মনিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। কেউ যেন সত্য বলে ফেলেন—এমন ভয়েই অনেক প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখছে না। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা প্রায় বিলুপ্ত।”
তিনি অভিযোগ করেন, বড় মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলো এখন মালিক এবং স্পন্সরের স্বার্থে পরিচালিত হয়, পেশাদারিত্ব কেবল মুখে বলা নীতিমালায় সীমাবদ্ধ। সরকার পরিবর্তনের পরও দমনমূলক আইন প্রায় আগের মতোই বহাল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইসিটি অ্যাক্ট ২০০৬, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩-এর অপব্যবহারের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুরোনো আইন বাতিল করে নতুন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ (সিএসও) জারি করলেও ৪২ ধারায় বলা হয়েছে—যা এই অধ্যাদেশে নেই, তাতে আগের আইনগুলোই কার্যকর থাকবে। মানে, পুরোনো অস্ত্রগুলো নতুন মোড়কে ফিরে এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো, নতুন অধ্যাদেশেও ‘রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ’, ‘জাতীয় নিরাপত্তা’, ‘গুজব’ ও ‘জনমনে বিভ্রান্তি’ এমন অস্পষ্ট শব্দ রয়েছে, যেগুলোর কোনো সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নেই। কিন্তু এগুলোর মাধ্যমে দমন যথেষ্ট সম্ভব।”
তবে সরকারের কিছু ইতিবাচক উদ্যোগকেও স্বীকার করেছেন জিল্লুর রহমান। তিনি জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারায় যুক্ত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পুলিশ চাইলে সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ না থাকলে আদালতের অনুমোদন নিয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে পারে। যদিও এতে ভুয়া মামলার প্রতিরোধের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তবুও এর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
