BD SYLHET NEWS
সিলেটশুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:০৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইসলামে বৃদ্ধ মুসলিমের বিশেষ সম্মান


জুলাই ২৭, ২০২৫ ২:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইসলাম ডেস্ক : জন্ম ও জীবনের যে ধারাক্রম—সেখানে ছোট থেকে বড় হতে হয়। এটি মহান আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহ তোমাদের দুর্বলরূপে সৃষ্টি করেন, অতঃপর দুর্বলতার পর তিনি শক্তি দান করেন, শক্তির পর আবার দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনিই সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।’(সুরা : রুম, আয়াত: ৫৪)

‘বড় ও ছোট’র অনেক দিক আছে। সবচেয়ে প্রকাশ্য দিক হলো—বয়সের দিক থেকে বড়-ছোট। মহান আল্লাহ পৃথিবীতে কাউকে আগে পাঠান, কাউকে পরে। তাই বয়সের দিক থেকে কেউ বড়, কেউ ছোট।

আবার শক্তি-সামর্থ্যের দিক থেকে কেউ বড়, কেউ ছোট। জ্ঞান ও মেধার দিক থেকে কেউ বড়, কেউ ছোট। পদ-পদবি ও ক্ষমতার দিক থেকে কেউ বড়, কেউ ছোট। ইসলামের চাওয়া-পাওয়া হলো বড়কে মান্য করা এবং বৃদ্ধকে সম্মান করা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আমাদের ছোটকে দয়া করে না, আমাদের বড়র হক আদায় করে না, সে আমাদের নয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৪৩)

বয়সের দিক থেকে বড় ব্যক্তিকে সম্মান করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহকে সম্মান করার একটি দাবি হলো, বৃদ্ধ মুসলিমকে সম্মান করা।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৪৩)

অনেক বৃদ্ধ মানুষ এমন আছেন, যাঁরা শুধু বয়সে বড় নন, অভিজ্ঞতায় ও আমলে অন্যদের চেয়ে বহু গুণ এগিয়ে। তাঁদের অবশ্যই সম্মান করতে হবে।

হাদিসের কিতাবে একটি ঘটনা আছে। দুজন সাহাবি ইন্তেকাল করেছেন। একজন শহীদ হয়েছেন। অপরজন এক বছর পর স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছেন। সাহাবায়ে কিরাম কোনো প্রসঙ্গে বলেন, যিনি শহীদ হয়েছেন তাঁর মর্যাদা বেশি। মহানবী (সা.) এ কথা শুনে বললেন, তাঁর এক বছরের নামাজ, রোজা, নেক আমল, দান-খয়রাতের কোনো হিসাবই তোমরা করলে না!’ (আবু দাউদ, হাদিস: ২৫২৪)

এতে বোঝা যায়, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও আমল অনেক বেশি হয়। এমন মানুষকে অধিক সম্মান করা উচিত।

উত্তম আমলের সঙ্গে দীর্ঘ বয়স মানবজীবনের একটি উত্কৃষ্ট অধ্যায়। এটা যেমনিভাবে পরকালে ব্যক্তির সম্মান, মর্যাদাকে উঁচু করে, তেমনি দুনিয়ায়ও সবার শ্রদ্ধা ও মর্যাদার আসনে সমাসীন করে। আল্লাহর কাছে সেসব বৃদ্ধ সর্বাধিক মর্যাদাবান, যাঁরা ইবাদত ও আমলের পথ ধরে বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তির সংবাদ দেব না? তারা বলল, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি উত্তম যে দীর্ঘ আয়ু লাভ করে এবং সুন্দর আমল করে।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ৭২১২, সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৩০৪৩)

ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে—কোনো সভা-সমিতি, অনুষ্ঠান ও মজলিসে বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে বড়দের আগে সুযোগ প্রদান করা। একবার তিন সাহাবি—আব্দুর রহমান বিন সাহাল, মুহাইয়্যাসাহ এবং খুয়াইসা ইবনে মাসুদ নবীজির দরবারে গেলেন। আবদুর রহমান বিন সাহাল প্রথমে কথা বলতে শুরু করলেন। নবীজি তাঁকে থামিয়ে বললেন—বড়কে আগে কথা বলতে দাও (কারণ তিনি সবার ছোট ছিলেন)। তিনি তখন চুপ হয়ে গেলেন। বাকি দুজন কথা বলা শুরু করলেন। (বুখারি, হাদিস: ৩১৭৩)

ইমামতির ক্ষেত্রেও বয়সে বড় ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিতে হবে—এটা ইসলামের বিধান। এক হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যদি তারা হিজরতের দিক দিয়ে বরাবর হয় তাহলে যারা বয়সে বড় তারা ইমামতি করবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৬৭৩)

ইসলামের শিক্ষা হচ্ছে, ছোটরা বড়দের আগে সালাম দেবে। সম্মানার্থে বড়দের আগে সালাম দেওয়ার কথা হাদিস শরিফে এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সালামের আদেশ করে বলেছেন, ছোটরা বড়দের সালাম দেবে। (বুখারি, হাদিস: ৬২৩১)

তাই বড়কে তাঁর প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া সবার অন্যতম কর্তব্য।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।