BD SYLHET NEWS
সিলেটমঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:১৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জান্নাতিদের প্রথম আপ্যায়ন কী কী হবে?


সেপ্টেম্বর ৭, ২০২২ ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ধর্ম ও জীবন ডেস্কঃ মানুষের আশার শেষ নেই। প্রতি নিয়ত কত আশা করে মানুষ। কত স্বপ্ন বুকের মাঝে লালন করে।কিন্তু কিছু স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। রূপ পায় না বাস্তবে। কিছু স্বপ্ন মরে যায় বুকের ভেতর। কিছু স্বপ্ন আহত হয়ে পড়ে থাকে মনের গহীনে।

দুনিয়ায় মানুষের সব আশা পূরণ হবে না বরং জান্নাতেই তার সব আশা পূরণ হবে।সেখানে তার কোনো ইচ্ছাই অপূর্ণ থাকবে না।থাকবে না সুখ-শান্তির অন্ত। আরাম-আয়েশের জন্য যা যা প্রয়োজন তার সব কিছুই থাকবে জান্নাতে।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, আর সেখানে (জান্নাতে) রয়েছে, তোমাদের কাঙ্ক্ষিত এবং চোখ জুড়ানো সব কিছু। তোমরা তথায় চিরকাল বসবাস করবে।আর এই যে, তোমরা জান্নাতের উত্তরাধিকারী হয়েছো, এটা তোমাদের কর্মের ফল। (সূরা যুখরুফ: ৭১-৭২)

জান্নাত যেমন অকল্পনীয়, তেমনি তার নেয়ামত ও হবে অকল্পনীয়। প্রিয়নবি (সা.)ইরশাদ করেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন, আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন সব বস্তু তৈরি করে রেখেছি, যা কখনো কোনো চক্ষু দেখেনি, কোনো কান শোনেনি, যা সম্পর্কে কোনো মানুষের মনে কোনো ধারণাও জন্মেনি। (সহিহ মুসলিম: ৭০২৪)

জান্নাতিরা জান্নাতে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই তাদেরকে মাছের কলিজা দিয়ে নাশতা দেওয়া হবে। হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)এর কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ইতোমধ্যে এক ইহুদি পাদ্রি এসে বললো, ‘আসসালামু আলাইকা ইয়া মোহাম্মদ’ তখন আমি তাকে এমন জোরে ধাক্কা দিলাম যে, সে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো।(ধাক্কা খেয়ে) সে আমাকে বললো, তুমি আমাকে ধাক্কা দিলে কেন?

আমি বললাম রাসূলুল্লাহ না বলে ইয়া মোহাম্মদ বললে কেন? ইহুদি বললো, আমি তো তাকে সেই নামেই ডেকেছি তার পরিবার যে নাম রেখেছে।তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমার পরিবারের লোকেরা আমার নাম মোহাম্মদই রেখেছেন। এরপর ইহুদি বললো, আমি আপনাকে কয়েকটি প্রশ্ন করতে এসেছি।

প্রতিত্তরে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন, আমি তোমার জিজ্ঞাসিত বিষয় সম্পর্কে জানালে তোমার কি লাভ হবে? সে বললো, তা মনোযোগ সহকারে শুনবো। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে মাটিতে দাগ কাটতে কাটতে বললেন, তোমার যা জিজ্ঞাসা করার জিজ্ঞাসা করো।

ইহুদি বললো, যেদিন আকাশ ও জমিনকে পরিবর্তন করা হবে (কেয়ামতের দিবসে) সেদিন মানুষ কোথায় থাকবে? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তারা সেদিন পুলসিরাতের নিকটে একটি অন্ধকার স্থানে থাকবে। কারা সর্বপ্রথম তা পার হবে?

রাসূল (সা.)বললেন, দরিদ্র মুহাজিরগণ। ইহুদি আবারো প্রশ্ন করলো, তারা জান্নাতে প্রবেশ করার পর সর্বপ্রথম তাদের কী দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে? তিনি বললেন, মাছের কলিজার।

ইহুদি পুনরায় প্রশ্ন করলো, এরপর তাদেরকে কী খাবার পরিবেশন করা হবে? তিনি বললেন, তাদের জন্য জান্নাতে পালিত ষাঁড় জবাই করা হবে । ইহুদি আবার প্রশ্ন করলো, এরপর এদের পানীয় কি হবে? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন,সালসাবিল নামক ঝর্ণার পানি। অতপর সে বললো, আপনি সত্য বলেছেন। (সহিহ মুসলিম:৬০৩)

আল্লাহ আমাদের জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।