BD SYLHET NEWS
সিলেটমঙ্গলবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১১:৫৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জার্মানিতে রুশ বংশোদ্ভূত ভাষাভাষীদের নির্যাতন শুরু


মার্চ ৯, ২০২২ ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিডি সিলেট ডেস্ক : ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান চালানোর পর থেকে জার্মানিতে শুরু হয়েছে রুশ বংশোদ্ভূত এবং রুশ ভাষাভাষীদের হয়রানি, নির্যাতন৷ রাস্তায় হামলার শিকার হচ্ছে শিশুরা৷ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হয়েছে হামলা৷ শিক্ষকদের রোষানলেও পড়ছে রুশ ভাষাভাষী শিক্ষার্থীরা৷ এমন খবর জানিয়েছে ডয়চে ভেলে।

জার্মানিতে রুশ ভাষাভাষীর সংখ্যা ৬০ লাখের মতো৷ রুশ ভাষাভাষীদের বেশিরভাগই জার্মান৷ তাদের পূর্বপুরুষরা এক সময় মধ্য ইউরোপের জার্মানভাষী বিভিন্ন দেশে ছিলেন৷ মূলত আঠারো শতকের দ্বিতীয়ার্ধে তারা রুশ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে গেলেও প্রথমে ১৯৫০-এর দশকে এবং পরে ১৯৯০-এর দশকে পশ্চিম জার্মানিতে চলে আসেন৷ বর্তমান প্রজন্ম জার্মান৷ তবে রুশ ভাষা এবং সংস্কৃতিকে তারা ধরে রেখেছে৷ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করলে সেই রুশ ভাষা এবং সংস্কৃতির সংশ্রবই বিপদে ফেলেছে তাদের৷

রোমান ফ্রিডরিশ উপলব্ধি করছেন ইউক্রেনে ইউক্রেনীয়দের এবং জার্মানিতে ‘রুশদের’ জীবনে পরিবর্তিত সময়ের এই কষ্ট৷ কোলনের কোরভাইলার জেলার সমাজকর্মী ফ্রিডরিশের জন্ম রাশিয়ার ওমস্কে৷ তার দাদি ছিলেন ইউক্রেনীয়৷ সমাজকর্মী হিসেবে ইউক্রেন থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য কিছু করা তাই একান্ত কর্তব্য মনে করেছেন এবং সে কারণে গেল কিছুদিন ধরে তাদের সহায়তা করতেই ব্যস্ত রাখছেন নিজেকে৷

রাশিয়ার হামলার কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া ইউক্রেনীয়দের পাশাপাশি রুশ ভাষাভাষী এবং রুশ বংশোদ্ভূতদের জীবনে নেমে আসা আকস্মিক সংকটও ব্যথিত করছে ফ্রিডরিশকে৷ পুতিনের ইউক্রেন হামলার জন্য জার্মানিতে বসবাসরত রুশ ভাষাভাষী এবং রুশ বংশোদ্ভূতদের নানাভাবে হয়রানির কিছু ঘটনার উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘একটা স্কুলে এক রুশ শিক্ষার্থীকে শিক্ষক বলেছেন উঠে দাঁড়িয়ে পুতিনের নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলতে- এই ঘটনাটা শুনে আমি হতবাক!’ ফ্রিডরিশ মনে করেন, এখনো খুব ব্যাপক পরিসরে না হলেও ঘরের বাইরে স্কুল, বাস-ট্রেন-ট্রামসহ বলতে গেলে দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে রুশ ভাষাভাষীরা যেটুকুই হামলা এবং হয়রানির শিকার হচ্ছে, তা খুব উদ্বেগের৷

কোলনের এক স্কুলে এক রুশ ভাষাভাষী ছাত্রকে তার সহপাঠীরা পিটিয়েছে৷ হার্ডওয়ারের দোকানে গিয়েছিলেন এক পোলিশ নারী৷ সেখানে উপস্থিতরা রুশ ভেবে এমন আচরণ শুরু করে যে দ্রুত চলে আসতে হয় সেই নারীকে৷

ওবারহাউজেনে এক পোলিশ-রুশ দোকানে হামলার ঘটনা কোলনেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে৷ এক সুপারমার্কেটের মালিক এতটাই উদ্বিগ্ন যে, এখন ভয় রাশিয়ার তৈরি পণ্য রাখার কারণে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা হতে পারে৷ ফ্রিডরিশ মনে করেন, রাশিয়ার হামলার কারণে জার্মানিতে নির্দোষ মানুষদের হয়রানি, নির্যাতন অচিরেই বন্ধ করা উচিত৷ তিনি বলেন, ‘কিছু সহিংসতার ঘটনা যেহেতু সামনে এসেছে, আইনি সংস্থাগুলোর উচিত এসবের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া৷ মস্কোর কাজের দায়ভার এখানকার রুশদের ওপর চাপানো হচ্ছে- এটা চলতে দেওয়া যায় না৷ আইনের শাসন কার্যকর করতে হবে৷

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।