ভিসানীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে থাইল্যান্ড। পর্যটন খাতে বিশ্বে সুপরিচিত এই দেশটি পূর্বে ৯০ দিনের জন্য ভিসা ছাড়াই অবস্থানের অনুমতি দিতো। কিন্তু বর্তমানে এই সময়সীমা ৩০ দিনে নামিয়ে এনেছে দেশটি। কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য মাত্র ১৫ দিন সুযোগ থাকবে ভিসা ছাড়া অবস্থানের। কোভিড মহামারীর পূর্বে থাইল্যান্ডে যত সংখ্যক পর্যটক ভ্রমণ করতেন তা কমে যাওয়ায় ২০২৪ সালে ভিসানীতিতে ছাড় দেয় তারা। কিন্তু তাদের এই ছাড়ের অপব্যবহারের অভিযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার কঠিন সিদ্ধান্ত নিল থাই কর্তৃপক্ষ। ৯০ দিন ভিসামুক্ত থাকার সুযোগে অনেক বিদেশি অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। মাদক চোরাচালান, অনলাইন প্রতারণা, অবৈধ হোটেল ব্যবসা, অনুমোদিত ভাষা শিক্ষা সেন্টার পরিচালনা সহ নানান অভিযোগে ভিসা সুবিধা নিয়ে কঠোর হতে হয়েছে দেশটিকে।
থাই সরকারের মুখপাত্র রাচেদা ধানাডিরেক বলেন, পর্যটন খাত থাইল্যান্ডের অর্থনীতির প্রাণ। পর্যটকরা অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেন। কিন্তু বর্তমানে অনেকে এটা নষ্ট করছে। ফলে থাইল্যান্ডে ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে সরকার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিহাসাক ফুয়াংগকেটকেও গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, নতুন এই পদক্ষেপ কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে নেয়া হয়নি। বরং যারা ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করে দেশটিতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের নিয়ন্ত্রণ করাই এর উদ্দেশ্য। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী আগে ৯৩টি দেশের নাগরিকদের জন্য চালু থাকা ৬০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ইউরোপের শেনজেন ভুক্ত ২৯ দেশে এবং অস্ট্রেলিয়াও রয়েছে। এখন থেকে পর্যটকরা সর্বোচ্চ ৩০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে এই সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ ও অঞ্চলের সংখ্যা ৫৭ থেকে কমিয়ে ৫৪ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স বিভাগের মহাপরিচালক মুঙ্গকরন প্রাটোমকায়েও। তবে কোন কোন দেশ এই তালিকায় থাকবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যটকদের বিভ্রান্তি এড়াতে নতুন ভিসা নিয়ম আরও সহজ করা হবে। সরকারের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, পর্যটকরা চাইলে ইমিগ্রেশন অফিসে গিয়ে একবার ভিসার মেয়াদ নবায়নের আবেদন করতে পারবেন। তিনি বলেন, আগে ৬০ দিনের সুবিধা চালু ছিল। এখন নবায়নের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নেবেন এবং পর্যটকদের দীর্ঘ সময় থাকার কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতে পর্যটন খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১০ থেকে ২০ ভাগ আসে এই খাত থেকে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাবে জেট জ্বালানি ও বিমান ভাড়ার খরচ বেড়ে যাওয়ায় পর্যটন শিল্প আরও চাপের মুখে পড়েছে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে থাইল্যান্ডে বিদেশি পর্যটকের আগমন আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪৫ ভাগ কমেছে। এর কারণ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে পর্যটক আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ পরিস্থিতিতে চলতি বছরের পর্যটক আগমনের লক্ষ্যমাত্রাও কমিয়ে আনা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ (এনইএসডিসি) ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ৩ কোটি ৫০ লাখ পর্যটকের পূর্বাভাস দিয়েছিল, এখন তা কমিয়ে ৩ কোটি ২০ লাখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
