আবু হুরায়রা (রা.)-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) ভাষণে বললেন, হে মানুষ-সকল, আল্লাহ তোমাদের ওপর হজ আবশ্যক করে দিয়েছেন, তাই তোমরা হজ আদায় করো। এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ, হজ কি প্রতিবছর আবশ্যক? নবিজি কোনো উত্তর দেননি। লোকটি পরপর তিনবার জিজ্ঞেস করল। তখন মহানবী (সা.) বললেন, আমি যদি ‘হ্যাঁ’ বলতাম, তাহলে তোমাদের ওপর প্রতিবছর হজ করা ফরজ হয়ে যেত। তখন তোমরা তা আদায় করতে পারতে না। তোমরা আমাকে (অতিরিক্ত প্রশ্ন করা থেকে) ছেড়ে দাও, যেভাবে আমি তোমাদের ছেড়ে রেখেছি। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতেরা তাদের নবীকে অতিরিক্ত প্রশ্ন ও তাদের নবীদের ব্যাপারে মতানৈক্যের কারণে ধ্বংস হয়েছে। আমি তোমাদের কোনো বিষয়ে আদেশ করলে সাধ্যানুযায়ী আমল করার চেষ্টা করবে, আর যদি কোনো বিষয়ে বারণ করি, তাহলে তা থেকে দূরে থাকবে।(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৩২৫৭)
শিক্ষা ও বিধান
১. হজ মানব-জীবনে একবারই ফরজ। তবে বারবার হজ পালন মানব-জীবনে রহমত ও বরকত বয়ে আনে।
২. দ্বীন সহজ, তাই কঠিন করা নিষেধ। কেননা ইসলাম মানুষের সাধ্যের বাইরে কোনো বিধান চাপায় দেয় না।
৩. অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন পরিহার করা উচিত।
৪. বনি ইসরাইলসহ পূর্বের উম্মতরা তাদের নবীদের সাথে অতিরিক্ত প্রশ্ন ও বিরোধিতার কারণে ধ্বংস হয়েছে—এটি আমাদের জন্য সতর্কবার্তা।
৫. রাসুল (সা.) যা আদেশ করেন, তা সাধ্যানুযায়ী পালন করতে হবে—অলসতা নয়, আবার অতিরিক্ত কঠোরতাও নয়। বরং ইসলামের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
