BD SYLHET NEWS
সিলেটবৃহস্পতিবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:০৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যে ১০ দেশের স্থায়ী কোনো নদী নেই


জানুয়ারি ২২, ২০২৬ ৪:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতা বিশেষ করে নগর সভ্যতা নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। সভ্যতা টিকিয়ে রাখতে পানির উৎস প্রয়োজন। এ জন্য নদীর কোনো বিকল্প নেই। তবে এমন কিছু দেশ আছে, যেসব দেশের ভেতরে কোনো স্থায়ী নদী নেই। শুষ্ক জলবায়ু, ছোট ভূখণ্ড বা বিশেষ ভূতাত্ত্বিক অবস্থার কারণে এসব দেশকে মিঠাপানির চাহিদা মেটাতে বিকল্প উপায়ের ওপর নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে নেই নদী। নিচে এমন ১০টি দেশ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

সৌদি আরব
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব। মুসলমানদের কাছে দেশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলিম হজ ও ওমরাহর জন্য দেশটিতে যান। যেসব দেশে কোনো স্থায়ী নদী নেই, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় সৌদি আরব। বিশাল মরুভূমির এই ভূখণ্ডে কোনো স্থায়ী নদী নেই। এ কারণে দেশটি লোনাপানি শোধনাগারের ওপর নির্ভরশীল। পানীয় জলের বড় অংশই আসে এই শোধনাগার থেকে। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলে কিছু হ্রদ ও শুষ্ক নদীখাত পানিতে ভরে ওঠে। সেগুলো পানির সাময়িক উৎস হিসেবে কাজ করে। কিন্তু কখনোই স্থায়ী নদী হয় না।

সংযুক্ত আরব আমিরাত
মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। শুষ্ক জলবায়ুর কারণে সেখানে স্থায়ী কোনো নদীর জন্ম হয়নি।বিকল্প হিসেবে দেশটি ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন, সমুদ্রের পানির লবণাক্ততা দূরীকরণ এবং বর্জ্যপানি পরিশোধন করে ব্যবহার করা হয়। অল্প কিছু বৃষ্টি হলে ওয়াদি বা শুষ্ক নদীখাতগুলোতে পানি দেখা যায়। মিঠাপানির স্থায়ী উৎসের অভাব দেশটির উন্নতি ব্যাহত করতে পারেনি। তবে আমিরাতের পানি ব্যবস্থাপনা কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে অন্যতম উন্নত দেশের একটি হয়ে উঠেছে।

কুয়েত
কুয়েতি মুদ্রা দিনার বিশ্বের অর্থনীতিতে সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রা। এটি বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক দেশগুলোর একটি। দেশটিতে কোনো ‘সারফেজ রিভার’ বা নদী নেই। দেশটি পানির জন্য প্রধানত লোনাপানি শোধনাগারের ওপর নির্ভরশীল। এই উৎস থেকেই বিশুদ্ধ পানির সিংহভাগ সরবরাহ করা হয়। দেশটিতে ভূগর্ভস্থ পানি রয়েছে, তবে তা আধা লবণাক্ত। এ কারণে এ পানি বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়। প্রাকৃতিকভাবে মিঠাপানির উৎসের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটি প্রাণবন্ত একটি শহর। আকাশচুম্বী অট্টালিকা ও আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের জন্য শহরটি বিখ্যাত।

কাতার
আরব উপসাগর দিয়ে ঘেরা উপদ্বীপ হওয়ায় কাতারেও স্থায়ী নদী নেই। দেশটি প্রধানত লোনাপানি পরিশোধন ও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া পানির পুনর্ব্যবহার নিয়েও বেশ কড়াকড়ি রয়েছে। মাঝেমধ্যে বৃষ্টির পর মৌসুমি ওয়াদি তৈরি হয়। কাতার মূলত ছোট একটি মাছ ধরার গ্রাম থেকে বিশ্বমানের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। দোহার নাটকীয় পরিবর্তন দেখিয়ে দিচ্ছে, বড় কোনো মিঠাপানির উৎস ছাড়া দেশগুলো আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে মানিয়ে নিতে পারে।

বাহরাইন
মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি দেশ বাহরাইন, অর্থনৈতিকভাবে বেশ সমৃদ্ধ। এটি মূলত দ্বীপরাষ্ট্র। কিন্তু দেশটিতে কোনো নদী নেই। বাহরাইনে কয়েকটি প্রাকৃতিক ঝরনা রয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে অনেক ঝরনায় পানির প্রবাহ কমে গেছে। উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো বাহরাইনও গৃহস্থালি চাহিদা মেটাতে সমুদ্রের পানির ওপর নির্ভরশীল। মূলত সমুদ্রের পানি পরিশোধন করে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করা হয়। নদীর অনুপস্থিতি সত্ত্বেও বাহরাইন একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। ইউনেসকোর তালিকাভুক্ত প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্থানের জন্য দেশটি সুপরিচিত।

ওমান
উপসাগরীয় দেশ ওমানেও স্থায়ী কোনো নদী নেই। তবে সেখানে ওয়াদি রয়েছে।কিছু ওয়াদিতে সারা বছর ধরে রাখার মতো পানি থাকে। কিন্তু সেগুলোকে নদী হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।ওমানের পার্বত্য ভূপ্রকৃতি ও ধোফার অঞ্চলের মৌসুমি বৃষ্টি সীমিত আকারে মিঠাপানির উৎস জোগায়। দেশটি তার ঐতিহ্যবাহী সেচব্যবস্থা ‘ফালাজ’ সংরক্ষণ করে রেখেছে। ভূগর্ভস্থ পানি ছোট ছোট নালার মাধ্যমে প্রবাহিত করার এই পদ্ধতি ইউনেসকো স্বীকৃত, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসতিগুলোকে সহায়তা করে আসছে।

লিবিয়া
আফ্রিকার দেশ লিবিয়া। এ দেশেও শুষ্ক মরুভূমির জলবায়ু বিদ্যমান। এ কারণে দেশটিতে স্থায়ী নদীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়। ঘাটতি পূরণে দেশটিকে কৃত্রিম নদী প্রকল্পের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা বিশ্বের বৃহত্তম সেচ ও পানি সরবরাহব্যবস্থাগুলোর একটি। এ পদ্ধতিতে সাহারা মরুভূমির গভীর থেকে জীবাশ্ম ভূগর্ভস্থ পানি পরিবহন করা হয়।নদী না থাকা ও অপ্রতুল বৃষ্টির কারণে লিবিয়ার মরূদ্যান ও উপকূলীয় বসতিগুলো দেশটির বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ইয়েমেন
উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ দেশের তুলনায় ইয়েমেনে বৃষ্টি বেশি হয়। কিন্তু সেখানে স্থায়ী কোনো নদ-নদী নেই। ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী আর যুদ্ধ-বিগ্রহের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি আলোচিত। দেশটিতে ওয়াদি নামের মৌসুমি জলাধার রয়েছে, যা কেবল বৃষ্টি হলেই ব্যবহারযোগ্য হয়। ইয়েমেনের পার্বত্য ভূপ্রকৃতি বৃষ্টির পানি সংগ্রহে সহায়তা করে থাকে। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে মানুষ কীভাবে টিকে থাকে? এখানে প্রাচীন ধাপভিত্তিক চাষাবাদ এবং আধুনিক ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মাল্টা
আকারে ছোট ও ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর কারণে মাল্টায় নদী গঠনের জন্য পর্যাপ্ত স্থান নেই। এ কারণে ভূগর্ভস্থ পানি ও লোনাপানি বিশুদ্ধকরণের মাধ্যমে দেশটির পানির চাহিদা মেটানো হয়, যা পানি সংরক্ষণের একটি পদ্ধতি।দেশটিতে নদ-নদীর অভাব থাকলেও আকর্ষণ কমাতে পারিনি। প্রাচীন দুর্গ, চুনাপাথরের খাড়া ভূমি এবং নীলাভ সমুদ্র উপকূল মাল্টাকে ইউরোপের সবচেয়ে জনপ্রিয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি করে তুলেছে।

ভ্যাটিকান সিটি
পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশ ভ্যাটিকান সিটি। এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই দেশটিতে কোনো নদী নেই। রোমের ভেতরে অবস্থিত দেশটি পুরোপুরি ইতালির পানি সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। তবু ছোট্ট এ দেশের গুরুত্ব কম নয়। রোমান ক্যাথলিক গির্জার ধর্মগুরুদের আবাসভূমি এটি। ভ্যাটিকান সিটি থেকে গির্জার সরকার বা ধর্মীয় যাজকীয় শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করেন পোপ। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ধর্মযাজক ও সন্ন্যাসীরাই মূলত এখানকার বাসিন্দা।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।