BD SYLHET NEWS
সিলেটবৃহস্পতিবার, ৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:১০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শীতকালে সাহাবিদের আমল:


জানুয়ারি ৬, ২০২৬ ৭:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আতিকুর রহমান নগরী : বিকেল হতে বইছে প্রচন্ড বেগে বাতাস। মনে হয় যেনো সাগরতীরে আছি আমরা। সন্ধ্যার পর রাত যতো হয় গভীর ততোই বাড়ছে শীতের তীব্রতা। প্রত্যুষে ঘাসের উপর কুয়াশার পানির প্রতিটি ফুটা জানান দেয় শীতকাল যে কতোই কোমলময়। চারদিকে তাকালে যেন মনে হয় শীতল আমেজে চাদরাবৃত হয়ে রয়েছে সবকিছু। বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্যে অপরূপ সৌন্দর্য আছে। যেগুলি আল্লাহর অনন্য সৃষ্টি। আর এই শীতকাল মুমিনের আমলী জীবনকে আরও বেশী সৌন্দর্যমন্ডিত করে থাকে। তাকে প্রস্ত্তত করে পরকালীন জীবনের জন্য পাথেয় সঞ্চয়ের সুবর্ণ সুযোগ গ্রহণ করতে।

আমাদের দেশের ষড়ঋতুর মধ্যে শীতকাল অন্যতম। পৌষ-মাঘ এ দু’মাস শীতকাল। এ ঋতু সম্পর্কে হাদীছে এসেছে এভাবে যে, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘জাহান্নাম তার রবের নিকট অভিযোগ করে বলেছে, হে রব! আমার এক অংশ অপর অংশকে খেয়ে ফেলছে। তখন তিনি তাকে দু’টি নিঃশ্বাস ফেলার অনুমতি প্রদান করেন। একটি নিঃশ্বাস শীতকালে, অপরটি গ্রীষ্মকালে। কাজেই তোমরা গরমের তীব্রতা এবং শীতের তীব্রতা পেয়ে থাক’।

আমলের বসন্তকাল:
শীতকাল মুমিনের জন্য আমলের বসন্ত ঋতু। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, ‘শীতকালকে স্বাগতম। এতে রহমত নাযিল হয়। এর রাত্রি ক্বিয়ামকারীর (রাতে নফল ছালাত আদায়কারীর) জন্য দীর্ঘ এবং এর দিন ছিয়াম পালনকারীর জন্য ছোট’। মুমিন ইবাদতে মশগূল থেকে পরকালের পাথেয় সঞ্চয়ে এ মৌসুম কাজে লাগায়। যেভাবে বসন্ত মৌসুমে পশু-পাখিরা মাঠে-ময়দানে ঘুরে-ফিরে খাবার সংগ্রহ করে খেয়ে শরীরটা মোটা-তাযা করে থাকে।

শীতকালকে মুমিনের বসন্তকাল হিসেবে গণ্য করা হয়। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘শীতকাল মুমিনের বসন্তকাল।’ (মুসনাদে আহমদ: ১১৭৩৪) তাই সাহাবায়ে কেরাম (রা.) শীতের মাওসুমকে আল্লাহপ্রদত্ত উপহার হিসেবে গ্রহণ করতেন এবং ইবাদত-বন্দেগি বাড়িয়ে দিতেন।

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.) শীতকালকে গণিমত সমতুল্য বিবেচনা করতেন। ইসলামে গনিমত ওই সম্পদকে বলে, যা যুদ্ধ করে অর্জন করতে হয়। কিন্তু শীতকাল এমন এক গনিমত, যা আমরা যুদ্ধ ছাড়াই অর্জন করতে সক্ষম। ওমর (রা.)-এর সেই মূল্যবান বাণীটি হাদিসের ভাষায়— ‘শীতকাল হচ্ছে ইবাদতকারীদের জন্য গনিমতস্বরূপ।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৯৮৩৫)

প্রখ্যাত সাহাবি ইবনে মাসউদ (রা.) শীত আগমন করলে আনন্দচিত্তে বলতেন, ‘শীতকালকে স্বাগতম। কারণ, তা বরকত বয়ে আনে। রাতগুলো দীর্ঘ হয়। ফলে তা ‘কিয়ামুল লাইল’ (তাহাজ্জুদ নামাজ)-এর জন্য সহায়ক এবং দিন ছোট হওয়ায় রোজা রাখতে সহজ।’ (আল মাকাসিদুল হাসানা: ২৫০)

শীতের আগমনে হজরত উবাইদ ইবনে উমায়ের (রা.)-এর এক প্রসিদ্ধ বক্তব্য হলো- ‘হে কোরআনের হাফেজগণ! কোরআন মাজিদ তেলাওয়াতের জন্য তোমাদের রাতকে দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। সুতরাং কোরআন মাজিদ পড়তে থাকো। রোজা রাখার জন্য তোমাদের দিনকে ছোট করা হয়েছে। সুতরাং দিনের বেলা রোজা রাখো। শীতের রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত করা (সওয়াবের ক্ষেত্রে) গ্রীষ্মের দিনে রোজা রাখার সমান।’ (লাতায়িফুল মাআরিফ: ৩২৭)

আল্লাহর রাসুলের প্রিয় সাহাবি হজরত মুআজ (রা.) মৃত্যুশয্যায় শায়িত অবস্থায়ও শীতের বড় রাতে নফল নামাজে দাঁড়াতে না পারার আফসোসে কান্না করেছিলেন। মুআজ ইবনে জাবাল (রা.)-কে মৃত্যুর সময় কাঁদতে দেখে কোনো একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কি মৃত্যুর ভয়ে কাঁদছেন হে মুআজ? তিনি বললেন, না। আমি মৃত্যুভয়ে কাঁদছি না; বরং শীতের রাতে নফল নামাজে দাঁড়াতে পারব না এই দুঃখে কাঁদছি।’

আক্ষেপের বিষয় হলো- শীতকালে আমাদের অনেকে ইবাদত-বন্দেগি থেকে বিরত থাকে। এমনকি এশা ও ফজরের নামাজেও উদাসীনতা দেখায়। ঠাণ্ডা পানি দিয়ে অজু করতে কষ্ট হয় বিধায় নামাজ আদায়ে অলসতা পেয়ে বসে। তাদের জানা উচিত- ঠাণ্ডা পানি দিয়ে পরিপূর্ণরূপে অজু করা অনেক বড় আমল। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন বিষয়ের সংবাদ দেব না, যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের গুনাহগুলো মুছে দেবেন এবং (আল্লাহর নিকট) তোমাদের মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করবেন? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসুল! নবী (স.) তখন বলেন, (শীত বা অন্যকোনো) কষ্টকর মুহূর্তে ভালোভাবে অজু করা।’ (সহিহ মুসলিম: ২৫১)

শীতের কষ্টকে পাত্তা না দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজে দাঁড়ানোর ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি দুই ঠাণ্ডার সময়ের নামাজ (ফজর ও এশা) আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সহিহ বুখারি: ৫৭৪)লেখক: আলেম-সাংবাদিক

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।