BD SYLHET NEWS
সিলেটবৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:৫৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কারখানার ভেতরে হু’ম’কি, বাইরে এনে ধর্মের ঢাল তুলে দিপুকে পুড়িয়ে হ’ত্যা


ডিসেম্বর ২১, ২০২৫ ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বিডি সিলেট প্রতিবেদক::- গত (১৮ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের জন্ম দেয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবককে নির্মমভাবে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়া হচ্ছে, আর সেই বিভীষিকাময় দৃশ্য নির্বিকারভাবে দেখছে উৎসুক জনতা।

পরে জানা যায়, নিহত যুবকের নাম দিপু চন্দ্র দাস (২৭)।নিহত দিপু ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা এবং রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি ময়মনসিংহের জামিরদিয়া ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ—কিন্তু প্রমাণ নেই ভাইরাল ভিডিওর ভাষ্য অনুযায়ী, দিপু মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন—এমন অভিযোগ তুলে তাকে হত্যা করা হয়। তবে কোথায়, কখন কিংবা কীভাবে এই কটূক্তি করা হয়েছে—এ সংক্রান্ত কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বরং একটি জাতীয় গণমাধ্যম, এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। সেখানে বলা হয়, এটি কোনো তাৎক্ষণিক উত্তেজিত জনতার ঘটনা নয়; বরং ব্যক্তিগত বিরোধ ও শ্রমিক অধিকার আন্দোলনকে ধর্মীয় উসকানির মোড়কে ঢেকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। শ্রমিক অধিকার নিয়ে সোচ্চার ছিলেন দিপু পরিবার ও সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দিপু দীর্ঘদিন ধরে কারখানায় শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সক্রিয় ছিলেন। উৎপাদনের অতিরিক্ত চাপ, ওভারটাইম, কাজের পরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তিনি নিয়মিত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতেন। এতে মালিকপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই কারণেই তাকে দীর্ঘদিন পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয় এবং একপর্যায়ে কারখানা থেকে বের করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ইস্তফায় বাধ্য করার চেষ্টা ও হত্যার হুমকি নিহতের পরিবার জানায়, ঘটনার দিন ১৮ ডিসেম্বর রাতে দিপুকে জোরপূর্বক চাকরি ছাড়তে চাপ দেওয়া হয়। তিনি রাজি না হওয়ায় তাকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। পরে সেই হুমকিই বাস্তবে রূপ নেয়। কারখানা থেকেই তুলে দেওয়া হয় উত্তেজিত জনতার হাতে তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন কারখানার ভেতরে দিপুকে হুমকি ও মারধর করা হয়। এরপর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চক্র বাইরে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা লোকজনকে খবর দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই কারখানার সামনে স্লোগান দিয়ে দিপুকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যাদের ‘বিক্ষুব্ধ মুসলিম জনতা’ হিসেবে দেখানো হয়েছে, তারা কেউই ঘটনাস্থলের আশপাশের বাসিন্দা নন। বাইরের জেলা থেকে আনা হয় হত্যাকারীদের র‌্যাব-১৪-এর অভিযানে গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন— মাদারীপুর, ঝালকাঠি, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দারা। এছাড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ময়মনসিংহ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের বড় অংশই ময়মনসিংহের বাইরের জেলার, যা ঘটনাটিকে আরও পরিকল্পিত বলে সন্দেহ জোরালো করে।

র‌্যাবের বক্তব্য….

র‌্যাব-১৪-এর পরিচালক নাইমুল হাসান জানান, দিপু চন্দ্র দাসকে হত্যার আগে কারখানার ফ্লোর ম্যানেজার তাকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। এরপর পরিকল্পিতভাবে তাকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

প্রশ্নের মুখে মানবতা ও আইনের শাসন এই নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একজন শ্রমিকের প্রাণহানি নয়; এটি শ্রমিক অধিকার, ধর্মের অপব্যবহার এবং আইনের শাসনের ওপর এক ভয়াবহ প্রশ্নচিহ্ন। প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

 

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।