সিলেটে এক কাতারপ্রবাসীর ভাইকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপহরণের পর হাত-পা বেঁধে ভিডিওকলে স্বজনদের নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই মো. ইব্রাহীম সিলেট এয়ারপোর্ট থানায় এবং জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পেয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধারে কাজ শুরু করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ভুক্তভোগী যুবকের নাম বুরহান উদ্দিন (৩০)। তিনি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সোনারখেওর গ্রামের বাসিন্দা।
ইব্রাহীম অভিযোগে জানান, তাঁর ছোট ভাই বুরহান উদ্দিন রোববার সকালে একটি মামলার হাজিরা দিতে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বুরহান তাঁর মোবাইলে ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, কানাইঘাটের নারায়ণপুরের করিম উদ্দিন, জকিগঞ্জের রনিসহ পাঁচ-ছয়জন তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থানে আটকে রেখেছে। সেখানে তাকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করছে। মুক্তিপণ হিসেবে ৮ লাখ টাকা দাবি করেছে অপহরণকারীরা।
ইব্রাহীম বলেন, অপহরণকারীরা তাঁর কাতারপ্রবাসী ভাইসহ স্বজনদের ভিডিওকলে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে টাকা দেওয়ার চাপ দিচ্ছে। অপহরণকারীরা নগদ তিন লাখ টাকা করিম উদ্দিনের বাড়িতে এবং বাকি পাঁচ লাখ টাকা তিনটি বিকাশে পাঠাতে সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে। রাতেই তিনি কোতোয়ালি থানায় গিয়ে কর্তব্যরত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। সেখানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান তদারকির পর জানানো হয়, ঘটনাটি সিলেট মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানার আওতাধীন। পরে তাঁকে এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ দাখিলের পরামর্শ দেওয়া হয়।
এদিকে অপহরণকারীরা রাতভর তাঁর ভাইকে নির্যাতনের পর হুমকি দিয়েছে, দ্রুত টাকা না পেলে বুরহান উদ্দিনকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বুরহানকে উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান সোমবার সন্ধ্যায় জানান, পুলিশ ওই মোবাইল নম্বরটি ট্র্যাকিং করেছে। কিন্তু লোকেশন চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। ভুক্তভোগীকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে আছে। পাশাপাশি র্যাব-৯ এর সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বর্তমানে র্যাব ও পুলিশ মিলে অভিযোগটি নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, নিখোঁজ বুরহান উদ্দিনের ভাই প্রবাসে কর্মরত আছেন। তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায়ে এমনটি করা হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
