মাহমুদ হোসেন খান ::-সারাদেশে ষাঁড়ের লড়াই বছরের পর বছর ধরে একটি ঐতিহ্যবাহী বিনোদন হিসেবে চালু থাকলেও, এটি বর্তমানে সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ। প্রাণী অধিকার সংরক্ষণ আইন ও বিভিন্ন সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের কার্যক্রম আইনত বেআইনি। তবুও চলছে ষাঁড়ের লড়াই বিভিন্ন গ্রামে।
প্রাণী অধিকার সংরক্ষণকারী সংগঠনগুলো এই প্রথাটিকে ‘অমানবিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাবি, লড়াইয়ের সময় ষাঁড়দের মারাত্মক আঘাত লাগে, যা প্রায়ই তাদের মৃত্যুর কারণও হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়াও, এসব লড়াইয়ে দর্শকরা বিপজ্জনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ষাঁড় অত্যন্ত শক্তিশালী এবং অপ্রত্যাশিতভাবে আক্রমণ করতে পারে, ফলে শিশু ও প্রবীণসহ দর্শকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
পশুপাখি চিকিৎসক ডা. ফারহানা হোসেন বলেন, “ষাঁড়কে এমন ভাবে প্ররোচিত করা হয় যাতে তারা একে অপরকে আক্রমণ করে। এটি প্রাকৃতিক আচরণের বাইরে এবং প্রাণীর জন্য চরম কষ্টের কারণ। এমন কর্মকাণ্ডকে মানবিক চোখে দেখা যায় না।”
স্থানীয় প্রশাসনও এই ব্যাপারে জোরদার পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাদের অভিযোগ, আইন থাকা সত্ত্বেও গ্রামীণ ও শহরতলী এলাকায় ষাঁড়ের লড়াই এখনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ষাঁড়ের লড়াই শুধুমাত্র প্রাণীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এটি সামাজিক এবং নৈতিক সংকটও সৃষ্টি করে। একদিকে ঐতিহ্য রক্ষা এবং বিনোদনের কথা বলা হলেও, অন্যদিকে প্রাণীর উপর যে অত্যাচার হয় তা সমাজে অশান্তি ও বিতর্কের জন্ম দেয়।
প্রাণী অধিকার সংরক্ষণকারীরা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তারা গ্রামীণ জনগণকে সচেতন করার জন্য শিবির, সভা ও মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন, যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে এই ধরনের ‘খেলা’ সম্পূর্ণ অমানবিক এবং বিপজ্জনক।
একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেখা গেছে, ষাঁড়ের লড়াইতে জড়িত প্রাণীর অর্ধেকেরও বেশিই গুরুতর আহত বা মৃত্যুবরণ করেছে। এছাড়াও, অনেক সময় এসব লড়াই থেকে অর্থনৈতিক লোভ ও জুয়া সংক্রান্ত সমস্যাও তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; শিক্ষার মাধ্যমে সমাজকে সচেতন করা ও ঐতিহ্যের নামে প্রাণী নির্যাতন বন্ধ করা এখন অতি জরুরি। “এটি কেবল একটি বিনোদন নয়, এটি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বের প্রশ্ন,” বলেন প্রাণী অধিকার কর্মী রাফি আহমেদ।
নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ষাঁড়ের লড়াই বন্ধ করা না হলে, এ ধরনের অনুষ্ঠান সমাজে প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি হ্রাস এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিনোদনের সংস্কৃতি বাড়াতে পারে। তাই আইন, শিক্ষা ও সচেতনতা একত্রিত ভাবে প্রয়োগ না করলে সমস্যার সমাধান কষ্টসাধ্য হবে।
