শিক্ষা খাতে আরও অর্থ ও সুযোগ বাড়ানোর দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে ফের আন্দোলনে নেমেছেন স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা। একই দিন শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের আলোচনায় ডেকেছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার গেফ্রে।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম লে প্যারিসিয়েন জানিয়েছে, বিকেল ৩টায় ৩টি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী সংগঠনের প্রতিনিধিদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। বৈঠকে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ফিলিপ বাপ্তিস্তও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু চলতি অক্টোবরের শেষ নাগাদ শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে এতে আন্দোলন থামেনি।
প্যারিসের কয়েকটি স্কুলে শিক্ষার্থীরা প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। অবরোধের কারণে প্যানথিওঁ-আসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সকালের ক্লাস বাতিল করা হয়। একই কারণে লুমিয়ের লিয়ঁ-২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি ক্যাম্পাস বৃহস্পতিবার বন্ধ রাখা হয়েছে। আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধের খবর এসেছে দেশটির অন্যান্য শহর থেকেও। আঙ্গে শহরে কয়েকটি স্কুলের সামনে আবর্জনার পাত্রে আগুন দেওয়া হলে তা নেভাতে দমকল বাহিনীকে যেতে হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ২২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ এবং আরও ১৫১টিতে আংশিকভাবে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা ছিল। তবে বুধবার একই সময়ের পূর্বাভাসের তুলনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে।
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার আসন বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পারকোরসুপ নির্বাচন প্রক্রিয়া বন্ধ করা।
ইউনিয়ন সিস্কাল লিসেনের (ইউএসএল) সভাপতি রিয়াদ রানি আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের দাবি জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবগুলোর আর্থিক হিসাবও প্রস্তুত করা হয়েছে।
এদিকে আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ফরাসি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার ইয়েল ব্রাউন-পিভে। সরকারও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। সরকারি মুখপাত্র মওদ ব্রেজোঁ বলেন, আগামী বছর জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ৬৪ বিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
