বৃহত্তর সিলেটের অরাজনৈতিক কল্যাণমূলক স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন সিলেট কল্যাণ সংস্থা (সিকস), সিলেট বিভাগ যুব কল্যাণ সংস্থা ও সিলেট প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭.০০ ঘটিকায় সিকস’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দের ৩৩তম সাপ্তাহিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সিলেট মহানগরীর ১৪নং ওয়ার্ডের জল্লারবাসীর পক্ষ থেকে পানির তীব্র সংকটের প্রতিবাদ জানিয়ে এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রতিকীভাবে হাতে কলস, বালতি নিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে যাওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে অহেতুক মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে জল্লারপারের ৬ জন নিরীহ নাগরিকদের আটক ও সিলেট কল্যাণ সংস্থার কার্যকরী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের সহ বিশিষ্টজন ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নাগরিকদের জড়িয়ে ভূয়া মামলা সাজিয়ে মামলা দায়ের করায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং এতদ্ববিষয়ে ব্যাপক আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, জনগণের হাতে বালতি-কলসি দেখেই যদি প্রশাসনের ক্ষমতার ভিত কেঁপে ওঠে, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই ভয়টা আসলে কিসের? জনগণের প্রতিবাদের প্রতীকের, নাকি জনগণের ন্যায্য অধিকার দাবির কাছে জবাবদিহি করার? ন্যায্য দাবি নিয়ে কোনো নাগরিক নগর প্রশাসকের কাছে গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা কোনোভাবেই সভ্য, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের পরিচয় হতে পারে না। প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে বালতি বা কলসি সঙ্গে নেওয়া কোনো অপরাধ নয় এগুলো কোনো নিষিদ্ধ বা মারাত্মক অস্ত্রও নয়। জনগণের হাতে থাকা প্রতিবাদের প্রতীকী বালতি-কলসিকেও যদি কর্তৃপক্ষ ‘ভয়ের উপকরণ’ হিসেবে দেখতে শুরু করেন এবং তার জবাব দিতে হয় গ্রেপ্তারের মাধ্যমে, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি প্রশাসনের এই ভয় কেন? প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা নিয়েই যখন গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে, তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রথম কর্তব্য ছিল জনগণের অভিযোগ শোনা, তাদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া অথবা অন্তত বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া। অথচ জনগণের কথা শোনার পরিবর্তে ক্ষমতার দম্ভে গ্রেপ্তারের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে যা অত্যন্ত অন্যায়, অগণতান্ত্রিক ও নিন্দনীয়। মনে রাখা উচিত প্রশাসনিক ক্ষমতা জনগণের কণ্ঠ রোধ করার লাইসেন্স নয়। জনগণের দাবি দমন করা যায়, কিন্তু জনগণের প্রশ্নকে গ্রেপ্তার করা যায় না। আজ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; কিন্তু তাদের দাবি, তাদের প্রশ্ন এবং তাদের অধিকারের বিষয়গুলোকে কি গ্রেপ্তার করা সম্ভব? সিলেটের নাগরিকদের ন্যায্য দাবি ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান করার পরিবর্তে এমন দমনমূলক, ক্ষমতার অপব্যবহারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। জনগণের অধিকার রক্ষায় এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবি। বক্তারা সিসিক কর্তৃক যুব সংগঠক মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের সহ জল্লারপারবাসীর উপর দেওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবী জানান এবং কোনো ষড়যন্ত্রই সিলেট কল্যাণ সংস্থার কর্মতৎপরতাকে আটকাতে পারবেনা বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জাতীয় যুব দিবস ২০১০ এ জাতীয় যুব পুরস্কার শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক পদকপ্রাপ্ত, সংস্থাগুলোর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সিলেট কল্যাণ সংস্থার কার্যকরী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহেরের সভাপতিত্বে ও সিবিযুকস’র সিলেট মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের পরিচালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিবিযুকস’র বিভাগীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক মোঃ জহিরুল হক জাকির ও আইন বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ কামাল মিয়া। বক্তব্য রাখেন সিবিযুকস’র বিভাগীয় কমিটির সহ-সভাপতি রোকনে আলম চৌধুরী, এম.এ আলী জালালাবাদী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মহিবুর রহমান মুহিব, জামাল আহমদ, সহ-অর্থ সম্পাদক পিযোষ মোদক, মোঃ ইকবাল হোসেন, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ সাহেদ আহমদ শান্ত, সহ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ ফরিদ আলী, সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক মোঃ সেলিম খান, যোগাযোগ ও সমন্বয় সম্পাদক শংকর বিশ্বাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক কবি মকসুদ আহমদ লাল, সিলেট মহানগর কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক দিপক কুমার মোদক বিলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নুর হোসেন, মহানগর কমিটির সদস্য মোঃ সাগর, নেতৃবৃন্দদের মধ্য থেকে হরিমোহন রায়, মোঃ আব্দুল লতিফ ও শাহরিয়া হাসান।
