সিলেট নগরীর রায়নগর রাজবাড়ী এলাকায় চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার কেসে গ্রেপ্তার আসামি, রং মিস্ত্রি বাবুল মিয়া এবার শোনালেন নতুন গল্প। এতে করে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হলো। তিন খুন নিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন গ্রেপ্তার বাবুল। ঘটনার পর পুলিশের কাছে গৃহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডের কাহিনি শোনানো বাবুল আদালতে দিয়েছেন ভিন্ন তথ্য। তাঁর ভাষ্য, চুরি করতে দেখে ফেলায় ওই তিনজনকে হত্যা করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে জবানবন্দি প্রদানকালে বাবুল মিয়া জানান প্রেম বা শারীরিক সম্পর্ক নয়, চুরি করতে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁকে চুরি করতে দেখে ফেলার কারণে তিনজনকে হত্যা করেন তিনি।
আদালতে জবানবন্দি প্রদানকালে বাবুল মিয়া জানান বাসা ভাড়ার টাকা জোগাড়ের জন্য ওই বাসায় চুরি করতে গিয়েছিলেন। গৃহপরিচারিকা দেখে ফেলায় প্রথমে তাঁকে এবং পরে গৃহকর্ত্রী ও গৃহকর্তাকে একাই খুন করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শিপলু চৌধুরী জানান, বাবুল মিয়া আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি কেন কীভাবে হত্যা করেছেন সে বিষয়ে জবানবন্দি দেন।
শিপলু চৌধুরী জানান, এর আগে চার দিনের রিমান্ড শেষে তাঁকে গত বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হয়। বিকেলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় সন্ধ্যায় তাঁকে বিচারকের কামরায় নেওয়া হয়। রাত ৯টায় জবানবন্দি শেষে তাঁকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে– বাবুল মিয়া দীর্ঘ জবানবন্দিতে তিনজনকে খুনের বর্ণনা দেন। বাসায় রঙের কাজ করার সুবাদে সেখানে যাতায়াত ছিল তাঁর। ঘটনার দিন সকালে বাসায় প্রবেশ করলে গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম তাঁকে দেখে ফেলে। তাহমিনা ডাকাডাকি করতে পারে সে জন্য তাঁকে প্রথমে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। তাঁর চিৎকার শুনে রান্নাঘর থেকে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম ছুটে গেলে তাঁকেও আঘাত করেন। তাঁর গলায় আঘাত লাগে। কয়েকবার ছুরিকাঘাত করা হয় তাঁকে। সর্বশেষ গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকে একাধিকবার ছুরিকাঘাতে হত্যার কথা জানান বাবুল।
বাবুল মিয়া জানান খুনের পর তাঁর শরীরে লেগে থাকা রক্ত পরিষ্কার করার জন্য বাথরুমে যায়। সেখান থেকে বেরিয়ে একটি কক্ষে টাকা-পয়সা খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে কিছু ৫০০ টাকার নোট পান, গুনে দেখে ১৫ হাজার টাকা। ওই সময় বাসার মোবাইল ফোন বেজে উঠে এবং মূল দরজার পাশে কেউ কথা বলার কারণে দ্রুত বারান্দা দিয়েই নিচে নেমে যান।
গত ১২ আগস্ট সকালে নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা নিকুঞ্জ ভিলার দ্বিতীয় তলা থেকে বাসার মালিক বিয়ানীবাজার উপজেলার আখাখাজনা এলাকার মৃত আবরু মিয়ার ছেলে মো. আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও ছাতকের বাসিন্দা গৃহপরিচারিকা তাহমিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দিন বিকেলে বাবুল মিয়াকে আটক করে পুলিশ। তিনি রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনির বাসিন্দা।
আটকের পর প্রথমে কাজের মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক এবং পরে তাঁকে গালমন্দ করার কারণে ক্ষোভ থেকে হত্যার কথা জানান। তাঁর এসব তথ্য নিয়ে কথা বলেছেন পুলিশ কমিশনার। কিন্তু আদালতে ভিন্ন তথ্য দেন বাবুল। বাসা ভাড়ার টাকা জোগাড়ের জন্য চুরি করতে গিয়ে তিনটি খুন একাই করেছেন বলে জানান তিনি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শিপলু চৌধুরী জানান রিমান্ডেও বাবুল একা তিনটি খুন করেছেন বলে দাবি করেন। তাঁর তথ্যের যাচাইবাচাই করা হচ্ছে। তৃতীয় কোনো পক্ষ সেখানে যুক্ত কিনা সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
