BD SYLHET NEWS
সিলেটবৃহস্পতিবার, ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:৩৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিলেট-সুনামগঞ্জে পাথর উত্তোলনে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে


মে ৭, ২০২৬ ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিলেট ও সুনামগঞ্জে পরিবেশ ও আইন মেনে সীমিত পরিসরে পাথর কোয়ারি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা শুরু করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি জরিপ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সিলেট বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সিলেট বিভাগের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় পাথর আহরণ সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জে পাথর আহরণ নিয়ে একাধিক বৈঠকে পরিবেশ আইন ও বিধিমালা মেনে এবং পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) বাদ দিয়ে সীমিত পরিসরে পাথর উত্তোলনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জাফলংয়ের মতো সংরক্ষিত এলাকা বাদ দিয়ে অন্যান্য স্থানে পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে কীভাবে পাথর উত্তোলন করা যায়, তা নির্ধারণে একটি সমন্বিত জরিপ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য সিলেট বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

কমিটিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন পরিচালক এবং দুই জেলার পুলিশ সুপার অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। প্রয়োজনে আরও বিশেষজ্ঞ যুক্ত করা যাবে।স্থানীয় সংবাদ পরিবেশন

মন্ত্রী বলেন, কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন করে নদীর পানিপ্রবাহ, সীমান্ত এলাকায় পাথর ও বালু জমে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে কি না এবং নদী ভাঙনের ঝুঁকি আছে কি না তা পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি না করে কত গভীরতা পর্যন্ত পাথর উত্তোলন করা যেতে পারে সে বিষয়েও সুপারিশ দেবে।

তিনি আরও জানান, বিছানাকান্দি, ভোলাগঞ্জ ও সাদা পাথরের মতো পর্যটন এলাকা সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এসব এলাকা যাতে পর্যটন উপযোগী অবস্থায় অক্ষুণ্ণ থাকে সে বিষয়েও কমিটি পরামর্শ দেবে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং পাথর লুটপাট ঠেকাতে পুলিশ সুপারদের কমিটিতে রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, পাথর আহরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা সব দিক বিবেচনা করেই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া যাবে এবং এরপর জুনের প্রথম সপ্তাহে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন কোয়ারি নিয়ে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে চলমান মামলা রয়েছে। জেলা প্রশাসকদের এসব তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে মামলাগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকার সব সিদ্ধান্তই আইন ও আদালতের রায়কে সম্মান জানিয়ে গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।