BD SYLHET NEWS
সিলেটশনিবার, ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:৪৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারে আতঙ্ক বাড়ছে


মার্চ ৪, ২০২৬ ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হবিগঞ্জে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য। ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া, ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত, মাদকসেবন, চুরি-ছিনতাই ও সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোররা। এতে অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কিশোর গ্যাং নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে জেলার সর্বস্তরের মানুষ।

অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্য মহড়া
সম্প্রতি শহরের রাজনগর, মহিলা কলেজ ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি কিশোর দল ধারালো চাপাতি ও চায়নিজ কুড়াল হাতে প্রকাশ্যে মহড়া দেয়। একপর্যায়ে তারা অস্ত্র হাতে ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। ওই ঘটনা শহরে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

একইভাবে শহরতলীর ধুলিয়াখাল বিসিক শিল্পনগরী এলাকায়ও ১০ থেকে ১২ জনের একটি কিশোর গ্যাং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেলে শোডাউন দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেল চালিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে, যা স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছাত্রী ও কর্মজীবী নারীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় অনেক সময় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। এই সুযোগেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে তারা।

পারিবারিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের অভাব কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তাঁরা।
এছাড়া বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মোবাইল ও দামি জিনিসপত্র চুরির ঘটনায়ও কিশোর গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার সামনে অবস্থান নিয়ে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা, রেলস্টেশন, হাসপাতাল গেইট ও জনবহুল এলাকায় দল বেঁধে ঘোরাফেরা- এসব কর্মকাণ্ড এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সাম্প্রতিক ঘটনা
গত রবিবার (১ মার্চ) রাতে তারাবি নামাজের সময় কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের সদস্যরা জেলা শহরের মোহনপুর বাইবাস সড়কে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে আটক করে পুলিশ। তবে পালিয়ে যায় অন্যরা। আটকরা হলো মাছুলিয়া গ্রামের মৃত ছন্দু মিয়ার ছেলে রাকিব, অনন্তপুরের সেলিম মিয়ার ছেলে রাহিম ও উমেদনগর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে নুর আলী।

এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি জেলার বানিয়াচং উপজেলার যাত্রাপাশা গ্রামের আবু সুফি মো. গোলাম রহমান ও তার ছেলে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ইজিবাইকযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। তারা ধুলিয়াখাল নামক স্থানে মোটরসাইকেল নিয়ে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওত পেতে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রথমে ইজিবাইক গতিরোধ করে তারা। পরে জোর করে ইজিবাইক থেকে নামিয়ে পাশের খোলা স্থানে নেয়। সেখানে নির্মমভাবে বেধড়ক মারধর করে তাদের। তারও আগে গত ১৬ জানুয়ারি জেলার চুনারুঘাট উপজেলার মুড়ারবন্দ ১২০ আউলিয়ার মাজারের মেলায় আধিপত্য বিস্তারে দোকানপাট ভাঙচুর ও দর্শনার্থীদের মারধর করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়।

প্রশাসনের ভূমিকা
কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলার প্রত্যেকটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, পুলিশ কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সম্প্রতি অভিযান জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে শহরের মোহনপুর বাইপাস সড়ক এলাকা থেকে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

কিশোর গ্যাং সম্পর্কে মন্তব্য
হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, ১৮ বছর না হলে আইন অনুযায়ী প্রশাসন লিগ্যাল অ্যাকশন না নিতে পারায় তারা নির্দ্বিধায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। প্রথমে সিগারেট থেকে শুরু। পরে মাদক সেবন। মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ করতে দ্বিধাবোধ করে না তারা।

হবিগঞ্জ শিশু আদালতের পিপি হাফিজুল ইসলাম বলেন, মা-বাবার খামখেয়ালিপনায় কিশোররা পড়ালেখা ফেলে রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত আড্ডা দেয়। খারাপ সঙ্গের কারণে বখে যায়।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াসমিন খাতুন বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ। তাদেরকে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলমান। কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নিতে আমরা কাজ করছি। সূত্র: কালের কন্ঠ

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।