মাহমুদ হোসেন খান:: বাংলাদেশে প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯ স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করলেও, ষাঁড়ের লড়াইয়ের নির্মম বর্বরতা আজও থামছে না। চোখে রক্ত, শরীরে ক্ষত নিয়ে ষাড় দুটো একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছে, আর চারপাশে দাঁড়িয়ে আছে হাজারো দর্শক, যারা এই নির্মম খেলা উপভোগ করছে। এটি শুধুমাত্র প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা নয়, এটি মানবতার মর্মে এক গভীর আঘাত।
সরকারি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই নিষিদ্ধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার বদলে চোখে মুখে কাঁচা পাতলা দেখায়। স্থানীয় প্রভাবশালীরা ‘ঐতিহ্য’ বা ‘সংস্কৃতি’র ছদ্মবেশে এই নির্মম খেলার সংবর্ধনা দিয়ে চলেছেন, অথচ এই সব ‘ঐতিহ্য’ যদি মানবতা ও নৈতিকতার বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তা কি আমাদের সংরক্ষণীয়? বরং এটি একটি সামাজিক কলঙ্ক।
দুটি অবুঝ প্রাণীকে মৃত্যু বা পঙ্গুত্বের মুখে ঠেলে দেওয়া, তাদের যন্ত্রণায় হাসিখুশি হয়ে তামাশা দেখা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। যে সমাজ নিজের বিবেকের কাছে এরকম নিষ্ঠুর হয়ে যায়, সে কখনো সত্যিকারের সভ্যতা অর্জন করতে পারে না। এই বর্বরতাকে বন্ধ না করলে আমাদের সমাজের মান ও মানবিকতা হারিয়ে যাবে।
এই নির্মম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবি। প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করে, আইন মেনে এই নিষ্ঠুর লড়াই বন্ধ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আমাদের উচিত এই বর্বরতাকে প্রতিহত করা, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরা জীবজন্তুর প্রতি করুণাময় ও মানবিক মনোভাব নিতে পারে।
পশুর রক্তে রাঙানো এই ‘উৎসব’ বন্ধ করতে না পারলে, আমরা নিজেই সভ্যতার নামে বর্বরতার একটি দাগ হয়ে থাকব।
