BD SYLHET NEWS
সিলেটশনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:১০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু


সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী দানের ডেগে জমা হওয়া অর্থ প্রকাশ্যে গণনা শুরু হয়েছে। প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে এবার চতুর্থবারের মতো প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এভাবে দানের অর্থ গণনা করা হচ্ছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মাজার প্রাঙ্গণে এ গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত ১৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটির তত্ত্বাবধানে গণনার কাজ চলছে। এতে মাদরাসার শিক্ষার্থী, মাজার কমিটির সদস্য এবং জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা অংশ নিয়েছেন।

মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা নির্ধারণে গঠিত কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী চতুর্থ দফায় গণনা শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১৫ আগস্ট সর্বশেষ দানবাক্স ও দানের ডেগ খোলা হয়েছিল।

১৫ আগস্টের গণনায় ৩৪ দিনে জমা হওয়া ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। এ সময় বিভিন্ন দেশের মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণ ও রুপার অলংকারও পাওয়া যায়।

এর আগে গত ২২ জুন প্রথমবার প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের দানবাক্স ও ডেগ সিলগালা করার চার দিন পর সেখান থেকে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, সাত আনা স্বর্ণ ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা যোগ করায় ওই দফায় মোট অর্থ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।

দ্বিতীয় দফায় ১১ জুলাই দানবাক্স ও ডেগ খুলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এ ছাড়া ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ গ্রাম সোনাসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রুপা পাওয়া যায়। দান হিসেবে একটি গরু ও ৬৫টি ছাগলও পাওয়া যায়। গরু ও ৪০টি ছাগল রান্না করে মাজারের ভক্ত ও অনুরাগীদের মধ্যে খাবার হিসেবে বিতরণ করা হয়। বাকি ২৫টি ছাগল বিক্রি করে পাওয়া যায় ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা।

তিন দফায় প্রকাশ্যে গণনা করে নগদ অর্থ হিসেবে মোট ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৪ টাকা পাওয়া গেছে। এসব অর্থ প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজারের নির্ধারিত হিসাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মাজার পরিচালনা-সংশ্লিষ্টরা জানান, দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থের হিসাব স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে সংরক্ষণ করতে নির্দিষ্ট সময় পরপর দানবাক্স খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

সিলেটের ঐতিহাসিক এ মাজারে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থী আসেন। তারা দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য সামগ্রী দান করেন। নির্ধারিত সময় পরপর এসব দানবাক্স ও ডেগ খুলে প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।