বিনোদন ডেস্ক : রুপালি জগতের ঝকঝকে আলো উপেক্ষা করা মানুষের সংখ্যা খুব বেশি না। বাইরে থেকে এই অঙ্গনের মানুষগুলোকেও আলো ঝলমলে মনে হয়। কিন্তু প্রদীপের নিচে থাকা অন্ধকারটুকু সবাই দেখতে পাননি। একজন অভিনেত্রীর আড়ালের এই জীবন নিয়ে কথা বলেছেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য।
‘প্রাক্তন’খ্যাত অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য তার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দিয়েছেন। এতে একজন অভিনেত্রীর সংগ্রাম ও না-বলা কথা তুলে ধরেছেন। অপরাজিতা আঢ্য বলেন, “একজন অভিনেত্রীর জীবন—বাহ! বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় আলো, ক্যামেরা, মেকআপ, গ্ল্যামার আর অফুরন্ত সুযোগের এক রাজপ্রাসাদ! ভেতরে ঢুকলে বোঝা যায়—এটা রাজপ্রাসাদ কম, ধাঁধার ঘর বেশি। আজ করতালি, কাল নীরবতা।”
ঢাকাই সিনেমার প্রয়াত নায়ক মান্না বলেছিলেন—“পৃথিবীতে সবচেয়ে স্বার্থপর জায়গা বলে যদি কিছু থাকে তবে তা চলচ্চিত্রাঙ্গন। এখানে আমরা সবাই কমার্শিয়াল। হৃদয়, প্রেম, ভালোবাসা বন্ধুত্ব সব এখানে মেকি।” মান্নার এই বক্তব্যই যেন স্মরণ করলেন অপরাজিতা আঢ্য।
অভিনেত্রী হওয়ার সুবিধা বর্ণনা করে অপরাজিতা আঢ্য বলেন, “আজ সবাই খুব আপন, কাল ফোনও ধরবে না। আজ তুমি ‘ফ্যাবুলাস’, কাল তুমি ‘ওভারএক্সপোজড’। আজ তোমাকে ছাড়া না কি কাজই হবে না, কাল তুমি আছ কি না সেটাই কেউ মনে রাখবে না! সবাই ভাবে অভিনেত্রীর জীবন মানেই সুবিধা। হ্যাঁ, সুবিধা আছে—নিজের কষ্ট লুকিয়ে হাসার সুবিধা, মন খারাপ নিয়েও ক্যামেরার সামনে ঝলমল করার সুবিধা, আর প্রতিদিন নতুন করে প্রমাণ করার অসীম সুযোগ!”
“হলিউড এমন এক জায়গা, যেখানে একটি চুম্বনের জন্য তারা আপনাকে হাজার ডলার দেবে, আর আপনার আত্মার জন্য দেবে মাত্র পঞ্চাশ পয়সা।”—সারা জাগানো মার্কিন অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর এই উক্তি টেনে অপরাজিতা আঢ্য বলেন, “সত্যিই, আলোটা সবাই দেখে, বিদ্যুতের বিলটা কে দেয়, সেটা খুব কম লোকই জানে।”
১৯৯৮ সালে ‘শিমুল পারুল’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় নাম লেখান অপরাজিতা। অভিনয় ক্যারিয়ারে অনেক জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো—‘চুপ কথা’, ‘গয়নার বাক্স’, ‘ওপেনটি বায়োস্কোপ’, ‘বেলা শেষে’, ‘প্রাক্তন’, ‘সমান্তরাল’ প্রভৃতি।
