গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এক ভাড়াটিয়া নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য তৈরি হয়েছে। একই বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি কর্তিত পুরুষাঙ্গ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের পার আমলাগাছী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঢোলভাঙ্গা বাজার সংলগ্ন মোস্তাফিজার রহমানের বসতবাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকা ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত নারীর পরিচয় নিয়ে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তার নাম কবিতা বেগম (২৫)। তিনি সাদুল্লাপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা। অপরদিকে, কিছু স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নিহতের নাম ববিতা বেগম (৩০) এবং তিনি স্থানীয় হারুন মিয়ার স্ত্রী। পুলিশ বলছে, প্রকৃত পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে ঘরের ভেতরে বিছানায় ওই নারীর গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে, ঘরের ভেতর বিছানায় গলাকাটা অবস্থায় মরদেহ পড়ে আছে। আর বাড়ির উঠানে পড়ে আছে একটি কর্তিত পুরুষাঙ্গ।
পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। কাটা পুরুষাঙ্গটিও জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ঘটনার পর থেকে নিহত ওই নারীর স্বামীকে বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে পারিবারিক কলহের খবর এলাকায় প্রচলিত ছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কিছু নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, “ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। অনেক দিন ধরে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য ছিল বলে শুনেছি। সকালে ঘরের দরজা খোলা দেখে গিয়ে দেখি, নারীর গলাকাটা লাশ পড়ে আছে। উঠানে আরেকটি কাটা অঙ্গ দেখে আমরা থানায় খবর দিই।”
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরওয়ারে আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। ঘরের ভেতর বিছানায় গলাকাটা অবস্থায় মরদেহ পড়ে ছিল। বাড়ির উঠানে একটি কাটা পুরুষাঙ্গ পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।”
ওসি আরও বলেন, “ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। কাটা পুরুষাঙ্গটি কার, তাও শনাক্তের চেষ্টা চলছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তারে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
